গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় লেবানন; ইসরাইলি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে বিশ্লেষকদের সংশয়

ইসরাইল ও লেবাননের চুক্তিতে সই
বিদেশে এখন
0

ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক নিরাপত্তা চুক্তিটি যুদ্ধের অবসানের চেয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থাকেই বেশি উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদরা। এই চুক্তিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণকে জুড়ে দেয়া হয়েছে—যা বর্তমান বাস্তবতায় প্রায় অসম্ভব একটি শর্ত। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

চুক্তির মূল ভিত্তি হলো হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ, যা গোষ্ঠীটি ইতিমধ্যে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। লেবাননের কোনো সরকারের পক্ষেই এই শর্ত জোরপূর্বক কার্যকর করার ক্ষমতা নেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, হিজবুল্লাহ যেহেতু অস্ত্র ছাড়বে না, তাই ইসরাইল এই সুযোগে দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক উপস্থিতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বজায় রাখার একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অজুহাত পেয়ে গেল।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক ফাওয়াজ গেরগেস এই চুক্তিকে ‘মৃতজাত’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, চুক্তির কাঠামোটি ত্রুটিপূর্ণ কারণ এটি এমন একটি শর্তের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে যা বাস্তবে পূরণ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ইসরাইল ইতিমধ্যে দক্ষিণ লেবাননে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীর একটি বাফার জোন তৈরি করেছে। এই চুক্তির ফলে ওই অঞ্চলটির ওপর ইসরাইলি দখলদারি দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক বৈধতা পেতে পারে।

লেবাননের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এটি কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নয় বরং একটি ‘চাপিয়ে দেয়া নিষ্পত্তি’। লেবাননের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ করার মতো সজ্জিত বা সংগঠিত নয়। বৈরুত-ভিত্তিক বিশ্লেষক মাইকেল ইয়াং সতর্ক করে বলেছেন, হিজবুল্লাহকে জোরপূর্বক নিরস্ত্রীকরণের যেকোনো চেষ্টা লেবাননকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র বিদ্রোহের জন্ম দিতে পারে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করলেও গত শনিবার তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত এবং ইসরাইলের ওপর হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেনারা দক্ষিণ লেবানন ছাড়বে না। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম এই চুক্তিকে ‘আত্মসমর্পণ’ বলে অভিহিত করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে কাগজে-কলমে চুক্তি হলেও মাঠপর্যায়ে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এএম