জাপানে ভূমিকম্পের পর সুপেয় পানির সংকট, সচল হয়নি বিদ্যুৎ সংযোগ

জাপানে ভূমিকম্পের পরের অবস্থা
বিদেশে এখন
0

শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর এখন সুপেয় পানির তীব্র সংকটে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ৫৮ হাজার পরিবার। বিকল গ্যাস লাইনের কারণে জনদুর্ভোগ ছাড়াও ৪৮ হাজারেরও বেশি বাড়িতে এখনও সচল হয়নি বিদ্যুৎ সংযোগ। কয়েক বিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে আছে সনি, টয়োটা, হোন্ডা এবং নিসানের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। প্রাণে বাঁচলেও সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন অনেক উদ্যোক্তা।

৪ বছর আগে জমানো সব অর্থ এক করে একটি স্পোর্টস বার খুলেছিলেন ইউসুকে হাশিমোতো। টম ক্রুজের ককটেল সিনেমা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এমন একটি বার বানাতে চেয়েছিলেন যেখানে সময় কাটাতে ছুটে আসবেন বন্ধুরা। কিন্তু মঙ্গলবারের ভূমিকম্পে ধসে গেছে সেই স্বপ্নের ভিত। বছরের পর বছর ধরে যত্ন আর মায়ায় গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানের ধ্বংসস্তূপে হেঁটে হেঁটে সাফ করছিলেন চারপাশ।

ইউসুকে হাশিমোতো বলেন, কী বলবো, সব কিছুই প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। স্টকে যা যা ছিল কিছুই আর ব্যবহার করার মতো না। কমপক্ষে ৩ মিলিয়ন ইয়েনের ক্ষতি হয়েছে আমার।

হাশিমোতো জানালেন কয়েক সপ্তাহের ব্যবসার ক্ষতির পাশাপাশি প্রায় ১৮ হাজার ডলারের পণ্য নষ্ট হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে বার সচল করতে সময় লাগবে আরও অন্তত ২ মাস।

শুধু ছোট বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে আছে সনি, টয়োটা, হোন্ডা এবং নিসানের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। ধসে পড়া শপিংমল ও কারখানার ধ্বংসস্তূপে এখনও চলছে তল্লাশি। ৪,৬০০ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছাড়াও চলছে জাপান সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের যৌথ অভিযান। ধসে যাওয়া শপিং মল আর কাগজের মিলের আশেপাশে উদ্ধার তৎপরতা সবচেয়ে বেশি।

ভূমিকম্পের ৩ দিন পরেও জাপানের উকি শহরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় হাজারো পরিবার। তীব্র গরমের কারণে অনেকেই রাত কাটাচ্ছেন বাড়ির বাইরে অথবা সুযোগ থাকলে ঘুমাচ্ছেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে। তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয়দের পাশাপাশি উদ্ধার কর্মীদেরও বিশেষ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ প্রশাসনের। এছাড়াও, গ্যাস লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

এদিকে, প্রাণে বাঁচলেও তীব্র গরম আর ভয়াবহ পানির সংকটে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ৫৮ হাজার পরিবার। তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়া জরুরি পানি সরবরাহের উপর নির্ভর করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, একের পর এক আফটার শকের কারণে রীতিমতো ভয় আর আতঙ্কে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা। একা থাকতে ভয় পাওয়ায় অনেকেই বাসাবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন অস্থায়ী তাবুতে। বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। কুমামোতোসহ আশেপাশের ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

ইএ