হরমুজ প্রণালির সব মাইন সরানো হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সব মাইন সরিয়ে ফেলেছে বা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করেছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দেন, নতুন করে কোনো জাহাজ বা নৌকা মাইন বসালে সেটি ‘তাৎক্ষণিক ও পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস’ করা হবে। এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান প্রণালিটি অনেকটাই বন্ধ রেখেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে।

ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ আছে। তবে ইরান বলেছে, তাদের অনুমতি ছাড়া প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করা কিছু জাহাজ লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে।

এই যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে বিমান হামলার মাধ্যমে। এরপর ইরান ইসরাইল, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ভেতরে থাকা স্থাপনাগুলোর দিকে পাল্টা হামলা চালায়। যুদ্ধ থামাতে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হলেও সেটি ভেঙে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাঝে মাঝে গোলাগুলির খবরও এসেছে।

এর মধ্যে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন দফায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আর্থিক অংশীদারত্বে থাকা দেশগুলোও একঘরে হয়ে পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক সই করে, যেখানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ ছিল। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর আলোচনা ভেঙে পড়ে এবং এরপরই নতুন নিষেধাজ্ঞা জোরদার করে ওয়াশিংটন।

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার জন্য তেহরান ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’। তবে যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের বন্দর দিয়ে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় দেশটির অর্থনীতি চাপে আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীন আপত্তি জানিয়েছে। মঙ্গলবার বেইজিং বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞা’র বিরোধিতা করে এবং নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এই পরিস্থিতিতে আগামী মাসে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠকের কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান পুরো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ মানতে রাজি নয়। এদিকে ইরান ও ওমান সম্প্রতি অস্থায়ী একটি নৌপথ চালু, মাইন অপসারণ এবং প্রণালি পরিচালনা নিয়ে আলোচনা করেছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি মঙ্গলবার বলেন, তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকের পর হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী নৌপথের ঘোষণা শিগগিরই আসতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামোয় প্রণালির এক অংশে শুধু বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে; সামরিক জাহাজ চলাচল করতে দেয়া হবে না। তিনি এটিও বলেন, এই ব্যবস্থাকে অস্থায়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং স্থায়ী ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি সময়সীমাও ধরা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের দাবি মানা না হলে প্রণালি বন্ধ থাকবে।

এএম