খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলা ও ইরানের পাল্টা জবাব; রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের খার্গ দ্বীপ
বিদেশে এখন
0

চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়া হচ্ছে ইরানের জ্বালানির প্রাণকেন্দ্র খার্গ। সামাজিক মাধ্যমে এমন দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। যদিও জানা যাচ্ছে না বিস্তারিত। এর আগে ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় প্রাণ যায় বেশ কয়েকজনের; যাদের মধ্যে আছে একাধিক আইআরজিসি সদস্যসহ বেসামরিক নাগরিকও। জবাবে, জর্ডান ও আরব আমিরাতে তিনটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে ফের উঁকি দিচ্ছে পূর্ণ সামরিক সংঘাতে শঙ্কা, বলছেন বিশ্লেষকরা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহযোগিতায় তৈরি এ ভিডিওটি রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওপরে ছোট্ট একটি বাক্যে লেখেন, ইরানে জ্বালানির প্রাণকেন্দ্র খার্গ চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়া হচ্ছে।

ইরান উপকূল থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গকে বলা হয় 'নিষিদ্ধ দ্বীপ'। তিন কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুতের পাশাপাশি তেহরানের জ্বালানি রপ্তানির ৯০ শতাংশ সরবরাহ করা হয় খার্গের সমুদ্রবন্দর থেকে। একইসঙ্গে ফারিদুন, দারিউস, সাইরাস ও আর্দাসিরসহ কয়েকটি সামুদ্রিক তেলক্ষেত্রের সঙ্গেও যুক্ত খার্গ। সবমিলিয়ে খার্গের প্রতি শকুনের নজর ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বীদের। খার্গে হামলা হলে জ্বালানি রপ্তানিতে গুরুতর বাধার পাশাপাশি চাপ আরও তীব্র হবে ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে।

এমন অবস্থায় খার্গ উড়িয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার দাবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কিন্তু এ বিষয়ে বিস্তারিত বা আর কোনো তথ্যই জানাননি তিনি। নীরব হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন। ট্রাম্পের দাবির প্রেক্ষিতে কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও জানায়নি তেহরানও। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, নতুন করে ইরানের কোনো জ্বালানিকেন্দ্রে হামলার খবরও জানা যাচ্ছে না। এদিন, ফক্স নিউজে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে আবারও ট্রাম্প প্রত্যয় জানান ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা ঠেকানোর।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের হাতে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকতো, ইসরাইল মুছে যেতো। আমি যদি প্রেসিডেন্ট না হতাম, ইসরাইল ধ্বংস হয়ে যেতো। ইসরাইলও থাকতো না। সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্য বলেও কিছু থাকতো না।’

এর আগে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় নিহত হয় ইরানের অভিজাত সশস্ত্র বাহিনী আইআরজিসি'র একাধিক সদস্যসহ বেসামরিক নাগরিকরাও, নিশ্চিত করেছে বাহিনীটি। আহত হয় আরও অনেকে। ওয়াশিংটন বলছে, আইআরজিসি'র দু'টি লঞ্চর লক্ষ্য করে হামলা করা হয়। অভিযোগ, বিশ্ববাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীর সাগরে মাইন পাতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সেনারা। প্রতিক্রিয়ায়, তেহরান যুদ্ধ না চাইলেও মার্কিন আগ্রাসনের বিপরীতে চুপ করে থাকার কারণ নেই বলে জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। সারা বিশ্বকে এখন পর্যন্ত এ বার্তাই আমরা দিয়ে আসছি। তবে আগ্রাসনের মুখে চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখবো না আমরা। উপযুক্ত জবাব দিতে আমরা সক্ষম।’

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে, এরই মধ্যে জর্ডানের কিং হোসেন ও আল আজরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। যদিও কেউ হতাহত হয়নি। বিশ্ববাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীর আকাশে মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করেছে আইআরজিসি। লারাকে মার্কিন হামলার জবাব এখানেই শেষ নয় বলে হুমকি দিয়েছে তেহরান।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির মিডল ইস্ট স্টাডিজ প্রোগ্রামের পরিচালক সিনা আজোদি বলেন, ‘সংঘাত আসলে আরও গড়াবে কি না, আমার মনে হয় যে এটা যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করছে, তারা ইরানের আজকের হামলার জবাব দিতে চায় কি না। যদি তারা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়, আমি মনে করি যে চাপে পড়ে ইরানের দিক থেকেও মার্কিন হামলার জবাব দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। এভাবে আবারও পূর্ণ সামরিক সংঘাত শুরু হয়ে যাবে।’

সবমিলিয়ে এক মাস বিরতির পর পাল্টাপাল্টি সংঘাতে জড়ালো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের এ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রতিপক্ষ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে আলোচনার পরিকল্পনা করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। কিরগিজস্তানের বিশকেকে সোমবার থেকে দু'দিনব্যাপী বার্ষিক সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে হতে পারে এ বৈঠক।

অন্যদিকে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে এবার প্রত্যেক সপ্তাহে নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা কার্যকরের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, ইরানের সাথে যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেনে যুক্ত দেশের বিরুদ্ধে আরোপ করা হবে এসব নিষেধাজ্ঞা।

এএইচ