ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি, গেল এক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনজুড়ে প্রায় দুই হাজার ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে টার্বো জেট চালিত রাশিয়ার অত্যাধুনিক জেট চালিত ড্রোন।
জেলেনস্কির দাবি, প্রায় এক হাজার কিলোমিটার উচ্চতা থেকে ঘণ্টায় অন্তত ৫০০ কিলোমিটার গতিবেগে আঘাত হানা দূরপাল্লার এ অস্ত্র প্রতিরোধে ব্যর্থ হচ্ছে ইউক্রেনীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, কিয়েভ অঞ্চলের মাইলা গ্রামের গোলাবারুদের গুদামে ভয়াবহ রুশ হামলার ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ওই স্থাপনায় প্রচুর কামানের গোলা, মাইন, ড্রোন ও অন্যান্য গোলাবারুদ মজুত থাকায় পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকাগুলোতে ব্যাপক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডেও খবর পাওয়া গেছে।
যদিও, রুশ হামলার পরপরই সম্প্রতি রাশিয়ার ৫৯ আর্টিলারি সিস্টেম, ১টি ট্যাঙ্ক ও ৭টি সাঁজোয়া যুদ্ধযান ধ্বংসের দাবি করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এছাড়াও, রোববার রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের ইয়েস্ক সামরিক বিমানঘাঁটি, শিল্প কারখানা ও একটি ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে হামলার বিষয় নিশ্চিত করেছে কিয়েভ।
লেনিনগ্রাদ ও ব্লাস্টের কিরিশি তেল শোধনাগারেও হামলা হয়েছে। এসব ইউক্রেনীয় হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও কয়েকজন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
এরমধ্যেই, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে ন্যাটোর আর্কটিক সেন্টিনেল মিশনকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে রাশিয়া। তার দাবি, ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়াকে এখনও প্রতিপক্ষ ও শত্রু হিসেবে গণ্য করে। ক্ষমতায় থাকা বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতিবিদরাও শান্তির পরিবর্তে সংঘাতে আগ্রহী।
যদিও ন্যাটোর দাবি, এই মিশনের মূল লক্ষ্য আর্কটিক অঞ্চলে জোটের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো, নজরদারি জোরদার এবং সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বিপরীতে এ অঞ্চলে রাশিয়ার রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত সাবমেরিনসহ নিজস্ব বিশাল নৌবহর। দেশটি এ অঞ্চলকে তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট এলাকা হিসেবে দেখে। এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি নৌপথও গড়েছে মস্কো।





