ইসলামে বিক্ষোভের অনুমতি নেই, দাবি তালেবান সরকারের

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ
বিদেশে এখন
1

আফগানিস্তানে সব ধরনের বিক্ষোভের ওপর জারিকৃত নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ ইসলামি শরিয়াহ আইনসম্মত বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর কড়া সমালোচনার মুখে গতকাল (বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ।

পাঁচ বছর আগে তালেবান দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আফগানিস্তানে সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ কমে আসে। তবে গত মাসে তালেবান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এক নীতি জারি করে জানায়, আফগানিস্তানে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সরকারের এই সিদ্ধান্তকে জনগণের ভিন্নমত দমনের কঠোর ও নিষ্ঠুর পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেয়।

এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জবিউল্লাহ মুজাহিদ এএফপিকে বলেন, এই আইনটি পুরোপুরি ইসলামি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইসলামি বিধানে বিক্ষোভ বা রাজপথে নামার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভ কেবল গণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্রের মতো সরকার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ইসলামি শাসনব্যবস্থায় রাজপথে না নেমে জনগণ সরাসরি সরকারের কাছে তাদের অভাব-অভিযোগ বা দাবি উপস্থাপন করতে পারে। এছাড়া এই নিষেধাজ্ঞার ফলে জনগণের সময় বাঁচবে এবং ব্যক্তিগত বা সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি বলেছে, ভিন্নমত দমনে তালেবানের নির্লজ্জ প্রচেষ্টারই অংশ এই নিষেধাজ্ঞা। অন্যদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে আফগানিস্তানের মানবাধিকারের ওপর আরেকটি বড় আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আফগানিস্তানে জনসমক্ষে বিক্ষোভের ঘটনা বিরল হলেও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের একটি দল জানিয়েছে, গত জুনে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে নারীদের অধিকার রক্ষায় আয়োজিত একটি সমাবেশে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে অন্তত দুজন নিহত হন।


এএম