পাকিস্তানের পাঞ্জাবে নতুন সংশোধিত আইন; গোপন থাকবে বিচারকার্য সংশ্লিষ্টদের পরিচয়!

পাঞ্জাবের সংসদ
বিদেশে এখন
0

সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে সন্ত্রাসী মামলাগুলোর বিচারে নতুন একটি সংশোধিত আইন পাকিস্তানের পাঞ্জাবের সংসদে পাশ হয়েছে। এটি অনুযায়ী, মামলার বিচারকার্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারক, কৌঁসুলি, সাক্ষী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীর পরিচয় গোপন রাখা হবে। সরকারের যুক্তি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো হুমকি-ধামকির মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাওয়ায় বিচারকদের সুরক্ষায় নতুন আইন পাস করা হয়েছে।

তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান, বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিসহ বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠীর রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনায় প্রায়ই সংবাদের শিরোনামে থাকে পাকিস্তানের নাম। গোষ্ঠীগুলোর অপরাধমূলক কার্যক্রম রুখতে সরকার হার্ড অ্যাকশনে গেলেও, কমছে না হামলার সংখ্যা। হরহামেশাই ঝরছে প্রাণ। হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও।

এসবের মধ্যেই সোমবার বিরোধীদলগুলোর বিতর্কের মুখেই পাঞ্জাব বিধানসভায় সন্ত্রাসবিরোধী একটি সংশোধিত বিল পাস হয়েছে। এটি অনুযায়ী, মামলার বিচারকার্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারক, কৌঁসুলি, সাক্ষী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীর পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না।

এতে সরকার একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেবেন যিনি নির্ধারণ করবেন কোন সন্ত্রাসী মামলাগুলো এই বিশেষ আইনের আওতায় পড়বে। তবে নির্দিষ্ট কোন মানদণ্ড পূরণ হলে একটি সন্ত্রাসী মামলা এই বিশেষ আইনের অন্তর্ভুক্ত হবে তার স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই।

নতুন আইনে প্রধান বিচারপতি একজন বিচারককে মামলাটি পরিচালনার জন্য মনোনীত করবেন। এরপর পাঁচজন সরকারি কৌঁসুলির একটি তালিকা থেকে একজনকে বেছে নেবেন সরকার মনোনীত কর্মকর্তা।

গোপনীয়তার স্বার্থে স্বাক্ষীদের পরিচয় প্রকাশ পাবে কোড নম্বরের মাধ্যমে। আর প্রয়োজন হলে মামলায় অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠস্বর পরিবর্তনের ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ, এটি এমন একটি আইন যেখানে অভিযুক্ত জানবেই না কে তার বিচার করছেন কিংবা কে তার বিপক্ষে স্বাক্ষ্য দিচ্ছেন।

প্রশ্ন উঠতেই পারে, কেন ও কোন প্রেক্ষাপ্টে পাঞ্জাব সরকার সন্ত্রাসী মামলাগুলোর বিচার পরিচালনায় এতো কঠোর গোপনীয়তার নীতি অনুসরণ করলো।

সরকার বলছে, বেশিরভাগ সময়েই এসব মামলার বিচারক, আইনজীবী ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। তাই বিচারকসহ সংশ্লিষ্টদের সুরক্ষা দিতেই নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বলে যুক্তি দিচ্ছে সরকার।

এছাড়াও, মামলাগুলোর বিচারপতি সরকার নিয়োগ দেয়ায় এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে না বলে দাবিও সরকারের।

কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে বিরোধীদল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের যুক্তি, আইনটি আদালত নয় বরং সুষ্ঠু রায়ের দায়িত্বভার ন্যস্ত করবে নির্বাহী বিভাগের। এছাড়াও, এর মাধ্যমে আদালতের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন হবে বলেও দাবি সমালোচকদের।

তবে এ ধরনের বিতর্কিত আইনের নজির কম নেই পাকিস্তানে। গেলো বছর পাঞ্জাব সরকার এমন একটি আইন পাশ করে যেটি কোনো অভিযোগ ছাড়াই একজন সন্দেহভাজনকে ৩ মাস কারাগারে আটক রাখার অনুমতি দেয়।

এসএইচ