আসিয়ানে গ্রহণযোগ্যতা ফেরাতে তৎপর মিয়ানমারের সামরিক সরকারপ্রধান, গেলেন ভিয়েতনাম সফরে

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং দেশটির সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল ইয়ে উইন ও-এর সঙ্গে করমর্দন করছেন
বিদেশে এখন
0

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ভিয়েতনাম সফরে গেছেন মিয়ানমারের সামরিক সরকারপ্রধান মিন অং হ্লাইং। আজ (শুক্রবার , ৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানী নেপিদো থেকে একটি ফ্লাইটে তিনি ভিয়েতনামের উদ্দেশে রওনা হন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল এমআরটিভি। অ্যাসোসিয়েট প্রেসের প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

হ্যানয় সফরকালে মিন অং হ্লাইং ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লামসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে একটি বাণিজ্য সম্মেলনেও তার অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী প্রধান থাকা অবস্থায় অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেন মিন অং হ্লাইং। এরপর থেকেই তিনি কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েন। ২০২১ সালের এপ্রিলে গৃহীত পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করায় আসিয়ানের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকগুলোতেও তার অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকে তিনি আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদার করার চেষ্টা করছেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ১১ সদস্যের আসিয়ানের কোনো সদস্যদেশে এটি তার তৃতীয় সফর।

দায়িত্ব গ্রহণের পর মিন অং হ্লাইং ভারত, চীন, লাওস ও থাইল্যান্ড সফর করেছেন। এছাড়া সম্প্রতি তিনি কাজাখস্তান, বেলারুশ ও রাশিয়া সফর করে বিনিয়োগ আকর্ষণে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ফোরামে অংশ নেন। অবশ্য বিরোধীদের ভাষ্য, সামরিক জান্তার ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতেই গত নির্বাচন সাজানো হয়েছিল।

মিয়ানমারের সঙ্গে ভিয়েতনামের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতা রয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী–সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটর মাইটেলে বিনিয়োগ রয়েছে ভিয়েতনামের সামরিক বাহিনী পরিচালিত টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ভিয়েতটেলের। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কমেছে। ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২০ সালে দুই দেশের বাণিজ্য যেখানে ৮৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার ছিল, তা কমে ২০২৫ সালে ৫৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। আর ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাণিজ্য হয়েছে ৩৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আগস্টের শেষ দিকে নেপিদোতে ভিয়েতনামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লে হোয়াই চুংয়ের সঙ্গে বৈঠকে মিন অং হ্লাইং নিজেই এ তথ্য তুলে ধরেন।

সু চির সরকারকে উৎখাত এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমনপীড়নের জেরে পশ্চিমা দেশগুলো মিন অং হ্লাইং ও তার সহযোগীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। ওই দমনপীড়নের পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে।

এএম