ইরান যুদ্ধের প্রভাব: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কমানো হয়েছে কর্মঘণ্টা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের  পাল্টাপাল্টি হামলা
বিদেশে এখন
0

যুদ্ধের প্রভাবে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ইরান। তেলসমৃদ্ধ দেশটিতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় খরচ কমাতে অফিসের কর্মঘণ্টা কমানো হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদের সপ্তাহে একদিন গণপরিবহনে যাতায়াত, মন্ত্রীদের মেট্রো ব্যবহার, হোম অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। যা বদলে দিচ্ছে ইরানিদের দৈনন্দিন জীবন। এদিকে, যুদ্ধের কারণে ইরানের জিডিপি হ্রাস পেয়েছে ১০ শতাংশের বেশি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস খাত। এরমধ্যে তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ ইরানের অর্থনীতিকে আরও কোণঠাসা করে ফেলেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের অপরিশোধিত দৈনিক তেল উৎপাদন ৩ মাসের ব্যবধানে কমেছে ১৩ লাখ ব্যারেল। এছাড়া, সমুদ্রে ভাসমান ইরানের মোট অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ এক মাসের ব্যবধানে কমেছে ৩ কোটি ব্যারেলের বেশি।

চলতি বছরে ইরানের তেলের ঘাটতি ১০ মিলিয়ন লিটারে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেপ্টেম্বরের শুরুতে দ্বিতীয়বার জ্বালানির দাম বাড়াতে বাধ্য হয় সরকার। এমন অবস্থায় রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাসের খরচ সাশ্রয়ে বেশকিছু নির্দেশনা জারি করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

সরকারি কর্মচারী ও দেশের নাগরিকদের সংকট মোকাবিলায় ব্যয় সাশ্রয়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত অফিসের কর্মঘণ্টা সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কাজ শেষে বন্ধ রাখতে হবে অফিসের লাইট, ফ্যান। সরকারি সংস্থাগুলোকে হোম চালুর বিষয়েও এসেছে নির্দেশনা।

বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদের সপ্তাহে একদিন গণপরিবহনে যাতায়াত এবং মন্ত্রীদের মেট্রো ব্যবহার করতে হবে।বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে নভেম্বর পর্যন্ত বিনামূল্যে মেট্রো ও বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে।

এছাড়া, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অন্যান্য পরিষেবাগুলোর জন্যও আসছে আলাদা আলাদা নির্দেশনা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধাপে ধাপে খোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এছাড়া বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিকভাবে চালু হচ্ছে অনলাইন ক্লাস।

একদিকে যুদ্ধ অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ ইরানিদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। দেশটির পরিসংখ্যান কেন্দ্রে তথ্য মতে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ইরানের জিডিপি কমেছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ। একই সময়ে তেল ও গ্যাস উত্তোলন কমেছে ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এসব পদক্ষেপে বড়জোর সাময়িকভাবে সংকট নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। তবে এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়।

ইএ