এক বছরে ১২ লাখ শিশুর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরি হয় এআইয়ে

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন
বিদেশে এখন
0

সামাজিক মাধ্যমের চেয়ে শিশুদের আরও বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। গুগলের সাবেক নিরাপত্তা প্রধানের হুঁশিয়ারি, মানুষকে শতভাগ ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার সক্ষমতা যে এআইয়ের নেই, সেটি প্রমাণিত। আর এর সবচেয়ে বড় শিকার শিশুরা। জাতিসংঘের তথ্য, এক বছরে অন্তত ১২ লাখ শিশুর ভুয়া, আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এআই।

শিশু-কিশোর ব্যবহারকারীদের ক্ষতির কারণ হওয়ায় বিশাল অঙ্কের জরিমানা গুণে যাচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম; চলমান হাজার হাজার মামলা। এসব মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশাধিকার খর্বে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার।

এসব সামাজিক মাধ্যমের চেয়ে শিশুদের আরও বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি, সতর্কতা টেক জায়ান্ট গুগলের সাবেক নিরাপত্তা প্রধানের।

যুক্তরাষ্ট্র ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়ুথ এআই সেইফটি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক টম সিয়েগেল বলেন, শিশু, অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং কিছুটা হলেও সমাজের সব মানুষকে যেভাবে প্রভাবিত করছে এআই, তাতে আমরা সত্যিই ভীষণ উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে আছি। আমি বলছি না যে এআইয়ের সবকিছু খারাপ। এআই নিয়ে কেবল হতাশা বা সর্বনাশের আশঙ্কা করা মানুষ আমি নই। কিন্তু এটা প্রমাণিত যে মানুষকে শতভাগ ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার সক্ষমতা এআইয়ের নেই।

কোটি তরুণ নিয়মিত চ্যাটবট ব্যবহার করছে, এমন এক সময়ে আরও উন্নত ফিচার যুক্ত করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই দ্রুতগতির বিকাশের সঙ্গে তাল মেলাতে এখনও পিছিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য, মাত্র এক বছরে বিশ্বের ১১টি দেশে অন্তত ১২ লাখ শিশুর আপত্তিকর ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল এআই প্রযুক্তি।

যুক্তরাষ্ট্র ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়ুথ এআই সেইফটি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক টম সিয়েগেল বলেন, আমি খুব একটা আশাবাদী নই। আমার মনে হয়, বাইরের সহায়তা ছাড়াই প্রযুক্তি খাত নিজে থেকে সব সমস্যার সমাধান করে ফেলবে- এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

পরোক্ষভাবে মানবিক অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ, ডিপফেক আর যাচাই-বাছাইহীন তথ্যের কারণে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, জ্ঞানের বিকাশ, এমনকি শারীরিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও শিশু সুরক্ষা কর্মীদের।

ইএ