প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে তীব্র গরমের কারণে এই বিপুল প্রাণহানি ঘটতে পারে। সাধারণ বছরের তুলনায় অতিরিক্ত গরমের দিনের সংখ্যা প্রায় ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এ বছরের বৈশ্বিক তাপমাত্রার প্রবৃদ্ধি ও এল নিনোর ধরনকে ভবিষ্যতের জলবায়ু সংকটের পূর্বাভাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার ফলে তৈরি হয়েছে এই সুপার এল নিনো। এর প্রভাবে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক নিয়ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক অঞ্চলে দেখা দিচ্ছে তীব্র খরা, আবার কোথাও দেখা দিচ্ছে আকস্মিক দাবানল।
গবেষণায় দেখা গেছে, উন্নয়নশীল ও দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলো (গ্লোবাল সাউথ) চরম তাপদাহ ও জলবায়ু পরিবর্তনের এই ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্যোগ মোকাবিলার দুর্বল কাঠামোর কারণে এসব দেশে মৃত্যুঝুঁকি বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিরিক্ত মৃত্যুঝুঁকিতে শীর্ষে রয়েছে নাইজেরিয়া, যেখানে প্রায় ৩১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০ এবং সুদানে ১৭ হাজার ৬০০ মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে মোট ৬৬ হাজার ৮০০ জন এবং ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতা যুক্ত হয়ে এই এল নিনোকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। সময়মতো আগাম সতর্কবার্তা জারি, চিকিৎসাকেন্দ্রে বাড়তি কর্মী মোতায়েন এবং জরুরি শীতল কেন্দ্র স্থাপন না করা গেলে এই তাপদাহে বহু মানুষের প্রাণহানি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।





