ওয়াশিংটন সফরে শি জিনপিংকে খাতির করতে অভূতপূর্ব ‘ব্রোম্যান্স’ বা ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের ভঙ্গি প্রদর্শন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মেরিল্যান্ডের বিমানবন্দরে শি জিনপিংকে সশরীরে গিয়ে অভ্যর্থনা জানানো থেকে শুরু করে ওভাল অফিসে তাকে পাশে নিয়ে প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’ ঘুরিয়ে দেখান ট্রাম্প। এমনকি হোয়াইট হাউসের দেয়ালে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছবির স্থানে অটোপেন যন্ত্র বসানোর ট্রাম্পীয় কৌতুক শুনে মৃদু হেসে ওঠেন শি জিনপিং। বিভিন্ন সময়ে হাত ধরে দুই দেশের চমৎকার বন্ধুত্বের দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কূটনৈতিক বিষয়গুলো এড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, ‘শি জিনপিং গ্রানাইট পাথর পছন্দ করেন, অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি তিনি পাথরের ভালো বিশেষজ্ঞ।’ ট্রাম্পের এ ধরনের হালকা কথাবার্তায় শি জিনপিং মাঝেমধ্যে মৃদু হাসলেও দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বেশ গম্ভীর ও শীতল ছিলেন।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের চীনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রায়ান হাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন, শি জিনপিং কথা বলছেন দুই দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ও বৈশ্বিক ক্ষমতার সমীক্ষণে, অন্যদিকে ট্রাম্প সবকিছুকে কেবল নিজেদের ব্যক্তিগত রসায়ন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এই দুই নেতার মানসিকতার পার্থক্য বেশ স্পষ্ট।
বিশ্লেষকদের মতে, নিজের মেয়াদের শেষ দুই বছরের কথা মাথায় রেখে ট্রাম্পকে বন্ধুত্বের অনুভূতি উপহার দিয়ে মূলত সময় পার করছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। আমেরিকান ইউনিভার্সিটির চীন বিশেষজ্ঞ জুডিথ শাপিরো জানান, মধ্যম রাজত্ব বা বিশ্বমঞ্চে চীনের কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা ও সম্মান আদায় করাই শি জিনপিংয়ের মূল লক্ষ্য। ট্রাম্প ব্যক্তিগত সমীকরণকে বড় করে দেখলেও শি জিনপিং অত্যন্ত সুচতুরভাবে তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইরানের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে বেইজিংয়ের রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমারেখাগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছেন।





