কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশ সম্প্রতি ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে নতুন মামলাটি করেছে। সাত মাস আগে টাম্বলার রিজ নামের ছোট এক শহরে ১৮ বছর বয়সি জেসি ভ্যান রুটসেলার আটজনকে হত্যা করেন। তার চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টে বন্দুক হামলার বিষয়ে কথোপকথন হওয়ায় তা আগেই শনাক্ত করা হয়েছিল। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রুটসেলারের মা, সৎভাই এবং একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক ছিলেন। পরে রুটসেলার নিজেও আত্মহত্যা করেন।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল নিকি শর্মা বলেন, এই মামলা ‘ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’। এর আগে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০টি মামলা করেছিলেন। গত এপ্রিলে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চান। এক খোলা চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করিনি, এ জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত।’
টাম্বলার রিজে বন্দুক হামলার আগে চ্যাটজিপিটিতে ব্যবহারকারীর সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশ। মামলায় ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যায় সহায়তা ও প্ররোচনা দেয়া’ এবং ত্রুটিপূর্ণ পণ্যের দায়বদ্ধতার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকেও এতে বিবাদী করা হয়েছে।
জরুরি সাড়া প্রদান ও কমিউনিটি পুনরুদ্ধারের ব্যয় মেটাতে ওপেনএআইয়ের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হামলার শিকার বিদ্যালয়টি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের ব্যয়ও রয়েছে। এ ছাড়া, সহিংসতা উসকে দেয়া ব্যবহারকারীদের কথোপকথন শনাক্ত ও ব্যবস্থা নেয়ার নীতি ঢেলে সাজাতে ওপেনএআইকে বাধ্য করতে আদালতের কাছে আরজি জানানো হয়েছে।
সাইমন ফ্রেজার ইউনিভার্সিটির হেলথ এথিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জ্যঁ-ক্রিস্টোফ বেলিসলে-পিপন বলেন, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া সম্ভবত কানাডার বদলে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলাটি লড়ছে। কারণ, সেখানে বেশি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে কানাডার আইন কতটা কড়াকড়ি, তা এতেই বোঝা যায়। সেখানে মানসিক যন্ত্রণা ও কষ্টের ক্ষতিপূরণের সীমা বেঁধে দেয়া আছে। শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণও সেখানে বিরল ও সামান্য। প্রদেশটিকে এখন যে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, কানাডার আদালতের রায়ে তা মেটানো সম্ভব না-ও হতে পারে।’
সেপ্টেম্বরের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের সান ফ্রান্সিসকো বিভাগে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা করেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, ‘এই হত্যাযজ্ঞে চ্যাটজিপিটি ভূমিকা রেখেছে এবং ওপেনএআইয়ের এটা ঠেকানোর সুযোগ ছিল ও তা করা উচিত ছিল।’
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাড়িতে গুলি চালিয়ে আটজনকে হত্যা করেন ১৮ বছর বয়সি জেসি ভ্যান রুটসেলার। রকি পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত টাম্বলার রিজ উত্তর ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার একটি দুর্গম পৌরসভা। ভ্যাঙ্কুভার থেকে প্রায় ১ হাজার ১৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বের এই শহরের জনসংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৪০০। ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল ৭ম থেকে ১২শ শ্রেণির একটি বিদ্যালয়। সেখানে ১৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
পুলিশ বিদ্যালয়টি থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পাশের একটি বাড়ি থেকে দুজনের মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের মতে, তারা হামলাকারীর ৩৯ বছর বয়সি মা ও ১১ বছর বয়সি সৎভাই। বিদ্যালয়ে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৯ বছর বয়সি এক নারী শিক্ষক, ১২ বছর বয়সি তিন ছাত্রী এবং ১২ ও ১৩ বছর বয়সি দুই ছাত্র ছিল।
হামলার পর ওপেনএআই জানায়, আট মাস আগেই তারা রুটসেলারের সঙ্গে যুক্ত একটি চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট অপব্যবহারের কারণে শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘সহিংস কার্যকলাপে উসকানি দিতে আমাদের মডেলগুলোর অপব্যবহারের’ কারণে অ্যাকাউন্টটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে ওপেনএআই জানায়, ওই সময় তারা পুলিশকে সতর্ক করেনি। কারণ, ব্যবহারকারীর কনটেন্ট পুলিশকে জানানোর মতো ‘উচ্চ মাত্রার শর্ত পূরণ করেনি’। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি মনে করেনি যে, এটি আসন্ন কোনো বড় বিপদের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ওপেনএআইয়ের প্রায় ডজনখানেক কর্মী কথোপকথনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। সেখানে রুটসেলার বন্দুক হামলার বিভিন্ন দৃশ্যপট বর্ণনা করেছিলেন। কিছু কর্মী বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোর তাগিদ দিলেও ওপেনএআইয়ের নেতৃত্ব তা না করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মার্কিন সাময়িকী মাদার জোন্স জানায়, চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ হওয়ার পর প্ল্যাটফর্মটিতে দ্বিতীয় একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন রুটসেলার। হামলার আগের মাসগুলোতে তিনি সেটি ব্যবহার করেন। রুটসেলারের চ্যাটের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, আরেকবার নিষিদ্ধ হওয়া এড়াতে চ্যাটবটটি রুটসেলারকে ‘নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল’ শিখিয়ে দিয়েছিল। যেমন, সহিংস কনটেন্টকে ‘কাল্পনিক বা অনুমিত’ হিসেবে উপস্থাপন করা। ওপেনএআই বলছে, তারা রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) সঙ্গে চ্যাটের লগ শেয়ার করেছে। তবে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া জানিয়েছে, তারা সেগুলো পায়নি।
অভিভাবক ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি, এমন পদক্ষেপ নিতে প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হয়েছে, যা ওই হামলা ঠেকাতে পারত। তা ছাড়া, চ্যাটজিপিটিকে একটি অনিরাপদ উপায়ে সাজানো হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর সান ফ্রান্সিসকো ফেডারেল আদালতে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার করা মামলায় বলা হয়েছে, ‘আরসিএমপিকে করা একটি ফোনকলই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঠেকাতে পারত।’
ওই মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ওপেনএআই ব্যবহারকারী পর্যায়ে এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা রুটসেলারকে দ্বিতীয় অ্যাকাউন্ট খুলতে বাধা দিতে পারত। ব্যবহারকারীদের যুক্ত রাখাকে অগ্রাধিকার দিতে চ্যাটজিপিটির নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়। মামলায় বলা হয়, প্ল্যাটফর্মটি ‘অন্যদের বক্তব্যের জন্য কেবল একটি নিষ্ক্রিয় মাধ্যম নয়, বরং একটি কনটেন্ট তৈরির পণ্য; যা বন্দুক হামলাসংক্রান্ত দৃশ্যপট তৈরি করেছে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘সম্ভাব্য ও নিরাপদ বিকল্প নকশা থাকা সত্ত্বেও তা গ্রহণ বা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।’
সাউথওয়েস্টার্ন ল স্কুলের আইনের সহযোগী অধ্যাপক টিফানি লি বলেন, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা অবহেলার অভিযোগটি ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার আইনি দাবিকে আরও জোরালো করতে পারে। আল জাজিরাকে লি বলেন, ‘এ বিষয়টি মামলাটিকে এআই-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর অন্যান্য মামলার চেয়ে আলাদা করে তোলে, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর অত্যাধুনিক সতর্কীকরণ ও রিপোর্ট করার কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না। এখানে অবহেলা ও সতর্ক করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগের শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে।’
গত এপ্রিলে এক খোলা চিঠিতে চিহ্নিত অ্যাকাউন্টের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে টাম্বলার রিজ কমিউনিটির কাছে ক্ষমা চান ওপেনএআইয়ের অল্টম্যান। তিনি লেখেন, ‘আমি জানি, কোনো কথাই যথেষ্ট নয়। তবে আপনাদের কমিউনিটির যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা স্বীকার করার জন্য ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’ অল্টম্যান সরকারগুলোর সঙ্গে কাজ করাসহ ‘ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করার’ প্রতিশ্রুতি দেন।
এর আগে কানাডা সরকারের কাছে ধারাবাহিক নিরাপত্তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ওপেনএআই। এসব সংস্কারের মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিষয়গুলো পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করা, কানাডার পুলিশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা। এ ছাড়া, ঝুঁকি কমানোর কাজে ‘দেশ ও সম্প্রদায়ের প্রেক্ষাপট’ অন্তর্ভুক্ত করা এবং বারবার নীতি লঙ্ঘনকারী ব্যবহারকারীদের ভালোভাবে শনাক্ত করতে সিস্টেমগুলোর উন্নতি করার কথাও বলা হয়েছিল। তবে শর্মা বলেন, ওপেনএআই এখনো ‘বেঁচে ফেরা ব্যক্তি, পরিবার ও টাম্বলার রিজ কমিউনিটির উত্থাপিত উদ্বেগ দূর করতে অর্থবহ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’
টাম্বলার রিজ হামলার ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ায় দায়ের করা মামলাগুলো খারিজের আবেদন করেছে ওপেনএআই। তাদের যুক্তি, এসব মামলার বিচার ব্রিটিশ কলাম্বিয়াতেই হওয়া উচিত।
ব্যবহারকারীদের ওপর প্রভাবের বিষয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও বেশি দায়িত্ব নেয়ার দাবি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, যারা আসক্তি ও অন্যান্য ক্ষতির বিষয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন অভিভাবক ও প্রচারকেরা। তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির বিষয়ে একটি দেওয়ানি মামলায় গত মার্চে অ্যালফাবেটের গুগল ও মেটাকে ক্ষতিপূরণের জন্য দায়ী করে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি জুরি বোর্ড। তাদের মতে, প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে এমন আসক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে কীভাবে বিবেচনা করে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার এই মামলা। তাদের মতে, এটি বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন সামনে এনেছে। যেমন, একজন ব্যবহারকারীর করা সহিংসতার জন্য কখন একটি এআই প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায়, কোন পরিস্থিতিতে তাদের সতর্কতার দায়িত্ব থাকে এবং কখন তারা সেই দায়িত্ব লঙ্ঘন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ড্রেক্সেল ইউনিভার্সিটির আইনের সহযোগী অধ্যাপক আনাত লিওর বলেন, হামলার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার দায়িত্ব ওপেনএআইয়ের ছিল কি না—এই প্রশ্নটি নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানটির বিপদ আঁচ করার ক্ষমতা এবং ‘সম্ভাব্য ক্ষতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করার’ সক্ষমতার মতো বিষয়গুলোর ওপর। লিওর বলেন, ‘আদালত যদি এ ধরনের দায়িত্বের স্বীকৃতি দেয়, তবে এটি এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাধ্যতামূলক আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারে। ব্যবহারকারীদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের রক্ষায় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা বা অন্যান্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব তাদের নিতে হবে। ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে এআইয়ের দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে আমরা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি, আরও অনেক কিছু ঠিক করার বাকি।’
বেলিসলে-পিপন বলেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে রুটসেলারকে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ দেয়ার বিষয়টি এই মামলায় প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘পুলিশকে ডাকতে ব্যর্থ হওয়া এক বিষয়, আর নিজের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয়ার কৌশল কোনো ব্যবহারকারীকে শিখিয়ে দেয়া আরেক বিষয়। যদি এই ঘটনাগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়, তবে এটি কেবল সতর্ক করতে ব্যর্থতা নয়। তখন প্রশ্ন উঠবে পণ্যটি নিজে কী ভূমিকা রেখেছে। আমি মনে করি, বাদীরা শক্ত আইনি সুবিধা পাবেন।’
লি আরও বলেন, ‘এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এআই অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যু নিয়ে অনেক মামলা চলমান, তবে এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো আইন নেই। কীভাবে এআই আইন তৈরি হবে, তার ওপর জোরালো প্রভাব ফেলার ক্ষেত্রে এই মামলাটি একটি সুযোগ হতে পারে।’
—আল জাজিরার প্রতিবেদনে অবলম্বনে





