হ্যাকিংয়ের পর এআই: প্রযুক্তির হাতেই কি নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ হুমকিতে?

প্রতীকী ছবি
বিদেশে এখন
0

হ্যাকিং থেকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। শুরুটা কম্পিউটিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা ভাঙা দিয়ে। এরপর এমন এক কাল্পনিক বাস্তবতায় পৌঁছানো, যেখানে আদেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাবতীয় অনৈতিক কাজ করে দিতে পারে এআই সফটওয়ার বা প্রোগ্রাম। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, হ্যাকিং যেভাবে সাইবার দুনিয়ার ত্রাসের দাসত্ব সৃষ্টি করে গেছে, এআই এরচেয়েও ভয়ংকর এক পরিণতি ডেকে আনবে। হ্যাকারকে শাস্তির ভয় দেখানো যায়, কিন্তু এআই হচ্ছে সফটওয়ার। প্রযুক্তিকে তো আর মূল্যবোধ শেখানো যায় না।

নিজের হাতে তৈরি যন্ত্রের কাছেই শেষপর্যন্ত বন্দি হবে মানুষ, এমন দিন খুব বেশি দূরে নয়। আশি-নব্বইর দশকে বিজ্ঞান নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা, প্রবন্ধ কিংবা সায়েন্স ফিকশনের পাতা ওল্টালেই চোখে পড়বে এই ভবিষ্যৎবাণী। ইতিহাস সাক্ষী, সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষের মধ্যে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অদম্য জেদ। অথচ, নিয়ন্ত্রণের অভাবে তাকে ক্ষতবিক্ষত হতে হয়েছে নিজেরই বানানো হাতিয়ারে।

অক্টোবরে আগামী প্রজন্মের নতুন এআই মডেল- জিপিটি-সিক্স পয়েন্ট ওয়ান আল্ট্রা- উন্মোচন করার কথা ছিল চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেন এইআইয়ের। কিন্তু সবশেষ পরীক্ষায় দেখা গেছে, জিপিটি-৬ সিরিজের এই এইআই মডেল মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। যন্ত্রের কাছে বন্দি হয়ে যাওয়ার নিরাপত্তা ঝুঁকি এতটাই স্পষ্ট যে, শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স, অ্যানথ্রোপিকও এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ও সংযম প্রতিষ্ঠার পক্ষে। কারণ এআই'র মধ্যে নীতি, আদর্শ আর মানদণ্ডের অভ্যন্তরীণ মাপকাঠি নেই।

ওপেনএআইয়ের সাবেক গবেষক ড্যানিয়েল কোকোতাজলো বলেন, ‘এআইয়ের মূল্যবোধ নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোনো উপায় জানা নেই আমাদের। স্পষ্টতই, আমাদের অ্যালাইনমেন্ট কৌশল খুব একটা কাজে আসছে না। এআই এজেন্টরা নীতিগত বাছ-বিচার, আর লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বারবার ভিন্ন আচরণ করছে। বিশেষ করে, এআই এজেন্টকে সৎ বানানোর ব্যাপারে একেবারেই পারদর্শী নই।’

গেল মাসে একটি হ্যাকিং এর ঘটনা বড় বড় প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ভাবনায় ফেলে। ঠিকঠাক কমান্ড পেলে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সুনির্দিষ্ট কাজ করে ফেলার ক্ষমতা আছে ওপেনএআই এজেন্টের, যা আদৌতে একটি সফটওয়্যার বা সিস্টেম। সেপ্টেম্বরের ২৪ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য পোর্টাল হ্যাক করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমতি লাগে এমন নথি বের করে আনে ওপেনএআইয়ের এক এজেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এআই এজেন্টের সরকারি সিস্টেম হ্যাক- এটাই প্রথম। পরে জানা গেছে, এরআগেও হ্যাকিং ও নিয়ম বহির্ভূত কম্পিউটিং- সাফল্য কুড়িয়েছে এই এআই এজেন্ট, যা এতদিন গোপনই রেখেছিল নির্মাতা ওপেনএআই।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এআই প্রযুক্তি'র মানোন্নয়ন করতে যাওয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে, প্রোগ্রামটি কখনোই থেমে থাকে না। নতুন তথ্য, কন্টেক্সট, নির্দেশ পেলে এটি নিজেই নিজেকে আপডেট করে ফেলে। চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকা এই বুদ্ধিমত্ত্বার লিমিট বলতে বলতে কিছু হয়না। সহজকথায় এআই চ্যাটবট নিয়ে চলমান গতিতে গবেষণা চালিয়ে যাওয়াটাও ভীষণই ঝুঁকিপূর্ণ।

এফএস