রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে ক্রমেই বাড়ছে ডিজেলের দাম। এমন পরিস্থিতিতে আকাশচুম্বী এ দামের লাগাম টানতে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭। যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত অর্থনীতির এই জোট বলছে, আগামী দিনগুলোতে এর আওতায় 'উল্লেখযোগ্য পরিমাণ' ডিজেল বাজারে ছাড়া হবে। শুক্রবার এ বিষয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে নেতারা।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সমন্বয়ে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের কৌশলগত মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জি-৭। এছাড়া নেতারা একটি বিষয়ে একমত হয়েছে। আর তা হলো জি৭ সদস্যদের মধ্যে কোনো রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।’
আরও পড়ুন
এদিকে, বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, ইইউ সরকারগুলো ইউরোপীয় দেশগুলোকে ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল এবং আইইএ সদস্যদের ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়তে ফ্রান্সের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। আর ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ৫কেটি ব্যারেল ডিজেল ছাড়া হলে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট জরুরি ডিজেল ও গ্যাসঅয়েল মজুদের প্রায় ১৭ শতাংশ বা এই জোটের বার্ষিক ব্যবহারের প্রায় ৩ শতাংশের সমান হবে।
অবশ্য এর আগে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের জরুরি মজুত থেকে বাড়তি ডিজেল বাজারে ছাড়তে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে জি-সেভেনের এই সমঝোতার পর শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ইউরোপ তাদের মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। এ প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের খুব ভালো সম্পর্ক আছে। এছাড়া তাদের কাছে প্রচুর ডিজেল মজুদ আছে। তাই তাদের বলেছ এটা যাতে তারা বাজারে আনেন তাহলে খুব ভালো হবে এবং তারা সেই পরামর্শ শুনেছে।’
এরই মধ্যে, জিসেভেনের এমন ঘোষণার পর মার্কিন ডিজেল ফিউচারসের দাম ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে আসে। এলএসইজি’র তথ্য অনুযায়ী, বেঞ্চমার্ক ইউরোপীয় ডিজেল ফিউচারসের দাম প্রতি মেট্রিক টনে প্রায় ৮৩ ডলার কমে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।





