পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির সঙ্গে তিন দফায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈঠক করেও ইমরান খান ইস্যুতে কোনো সমঝোতায় আসতে পারেনি পিটিআই। রাতভর বৈঠকের পর রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি জানান, আলোচনা ভেস্তে যাওয়া ও বানচালের পেছনে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদির হাত রয়েছে। যদিও, পিটিআই বলছে, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পেছনে দায়ী বিরোধীদের ওপর সরকারের একতরফা দায় চাপানো।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই পিটিআই নেতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে লং মার্চের ডাক দেন সোহাইল আফ্রিদি। এরপরই পেশোয়ার-করাচি সিন্ধু থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াতে সমবেত হন কয়েক হাজার সমর্থক। মিছিলের বিশাল গাড়িবহর রোববার রাতে কারাক শহরে অবস্থান নেয়। সোমবার সেখান থেকেই রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে দিকে যাত্রা করে লংমার্চ। তাদের একটাই দাবি ইমরান খানের মুক্তি।
লংমার্চে অংশ নেয়া একজন বলেন, ‘দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ইমরান খানের প্রতি যে অবিচার করা হচ্ছে তা অবসানে এ লংমার্চ।’
লং মার্চ ঘিরে প্রতিটি সড়কে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ। মিছিলে নেতৃত্ব দেয়া খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি বলেন, আগামী ৮ অক্টোবর গান্ধী চক স্কয়ার থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে পিটিআই। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে জি হুজুর নীতিতে বিশ্বাসী নয় ইমরান খানের সৈনিকরা।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি বলেন, ‘এমন কোনো নীতি মেনে নেয়া হবে না যা খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি হবে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কমাতে পিটিআই আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে গিয়েছিল, তবে সেই আলোচনা তারা বানচাল করে দিয়েছে। ইমরান খানের দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিই বাস্তবায়ন করতে হবে। আর কোনো নীতি গ্রহণ করা হবে না।’
এদিকে, ইমরান সমর্থকের লং মার্চ ঠেকাতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পাকিস্তান সরকার। বেশ কয়েক দিন আগে থেকেই শিপিং কন্টেইনার দিয়ে রাজধানীর প্রধান প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এবার কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে শ্রমিক বা রাজনীতিবিদ যেই হোক তাদের খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে সরকার। বেশ কয়েকটি জেলায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।
তবে সব বাধা উপেক্ষা করে বিশাল বহর নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে মিছিল। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে জনগণের স্বার্থ বিরোধী কোনো পদক্ষেপ মেনে নেয়া হবে না বলে জানিয়েছে পিটিআই সমর্থকরা। এ সময় তারা বলেন, পাকিস্তানের আসল মানুষ ইমরান খান, তার স্ত্রী বুশরা বিবি এবং তার তিন বোনদের বেআইনিভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের দমনপীড়নের চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা উচিত।





