নয়াদিল্লিতে ৬ হাজার বিক্ষোভকারী আটক; সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা

নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের সময় সিজেপি সমর্থকদের আটক করছে পুলিশ
বিদেশে এখন
0

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ডাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অভূতপূর্ব কড়াকড়ি ও নজিরবিহীন ধরপাকড় চালানো হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাবেক একাধিক মুখ্যমন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা, অধিকারকর্মী ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ছয় হাজার মানুষকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। তবে রাজধানী অচল করে বিপুলসংখ্যক মানুষকে আটকের পরও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা উড়োজাহাজে করে নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে নামামাত্রই উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই তাদের আটক করা হয়। দীপকের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের দায়িত্ব পাওয়া সিজেপির জাতীয় সংগঠনবিষয়ক ইনচার্জ অজিঙ্ক শিন্দে জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে। এছাড়া নামকরা ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে তার গুরুগ্রামের বাসভবন থেকে আটক করা হয়।

বিক্ষোভ ঠেকাতে সমগ্র নয়াদিল্লিতে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। মূল বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তর সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং কোনো বিক্ষোভকারীকে সেখানে পৌঁছাতে দেয়া হয়নি। ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করার পাশাপাশি সেন্ট্রাল দিল্লিতে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত করা হয়।

রাজপথে নেমে বিক্ষোভে সংহতি জানাতে গিয়ে আটক হন সাবেক একাধিক মুখ্যমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা। তাদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার রয়েছেন। আটকে রাখা পুলিশ ভ্যানে ঘোড়ানোর অভিজ্ঞতা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমাদের অপহরণ করা হয়েছে।’ পরে রাতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাসহ কয়েকজনকে মুক্তি দেয়া হয়।

এই ধরপাকড়ের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘পুরো নয়াদিল্লি বন্ধ করে দিয়ে পুলিশ ও বিজেপির গুণ্ডারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে আমরা পিছপা হব না।’ অন্যদিকে পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রোববার বা রোববারের মধ্যে আটক সবাইকে মুক্তি না দিলে তিনি অনশন বা পদযাত্রার ঘোষণা দেবেন।

এদিকে দিল্লির বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা দাবি করেছেন, নয়াদিল্লিকে কোনোভাবেই জিম্মি করতে দেয়া হবে না। বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন অভিযোগ করেছেন, বিরোধী দলগুলো ককরোচ জনতা পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে বিদেশি শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

এএম