রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধ; ইউক্রেনে নতুন প্রেসিডেন্ট চান ট্রাম্প

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিদেশে এখন
0

রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি চুক্তি এবং রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় হামলার জের ধরে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা আনার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের একদিন পরই শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের ওই জ্বালানি চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন জেলেনস্কি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় ইউক্রেনের এখন একজন নতুন প্রেসিডেন্ট দরকার।’ তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে জেলেনস্কি বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ব্যাহত করছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি করে আমাদের কৃষক ও খামারিদের বিপদে ফেলতে চান, কারণ রাশিয়া বিশ্বের একটি বড় অংশে ডিজেল সরবরাহ করে থাকে।’ তেল শোধনাগারে হামলা না চালাতে জেলেনস্কিকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, বারবার সুযোগ পেয়েও জেলেনস্কি কোনো কার্যকর শান্তিচুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এর আগে ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে হওয়া ডিজেল চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্তের ফলে মস্কো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চুক্তি ঘোষণার পর শনিবার ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিজিয়ার আবাসিক ভবনে পাঁচটি গাইডেড বোমা ফেলে রুশ বাহিনী। এতে তিন শিশুসহ অন্তত ২০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একটি ছয় বছর বয়সী কন্যাশিশুও রয়েছে। রাশিয়ার এই প্রাণঘাতী হামলা তুলে ধরে জেলেনস্কি বলেন, ‘ডিজেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য রাশিয়া জাপোরিজিয়ায় বোমা ফেলে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। মস্কোর ওপর চাপ কমানোকে রাশিয়া নির্বিচারে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সবুজ সংকেত হিসেবে নিচ্ছে।’

চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনে এটি তৃতীয় দফা বড় ধরনের বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা। এর আগে ক্রামাতর্স্ক ও প্রিলুকিতে পৃথক হামলায় অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হন। রাশিয়ার সঙ্গে এই জ্বালানি চুক্তির সমালোচনা করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতা এবং ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির নেতা ডন বেকনও।

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের যুদ্ধ অবসানের উপায় নিয়ে আলোচনা চলার সময়ই হঠাৎ এই ডিজেল চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। জেলেনস্কির কার্যালয় জানিয়েছে, এই আকস্মিক পদক্ষেপে কিয়েভ সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিল। এদিকে মস্কোর ওপর ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণ দেখিয়ে পুতিন বলেছেন, শান্তি আলোচনা এখনই পুনরায় শুরু করা সম্ভব নয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মস্কো সফর করতে পারেন।

অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম শনিবার জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিগগিরই দুই নেতার মধ্যে মুখোমুখি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এএম