অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যেই পার্লামেন্ট নির্বাচনের মুখে ইসরাইল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে চাপের মধ্যে নেতানিয়াহুর সরকার। একাধিক ফ্রন্টের সামরিক সংঘাত নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে যুদ্ধক্লান্ত ইসরাইলি জনগণ। নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও এক ধরণের অস্থিরতায় তারা।
তিন বছর আগে হামাসের হামলার বেদনাদায়ক ঘটনা এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে নিহতদের স্বজনদের। তাদের মতে, এ ঘটনায় নেতানিহুর প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করা উচিত ছিল। অথচ তিনি দায় অস্বীকার করে স্বাধীন তদন্তের আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেছেন। এখন আবার নেতানিয়াহু ক্ষমতায় আসলে তা হবে ইসরাইলিদের জন্য সবচেয়ে দুঃখের বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী জোট নির্বাচনে জয়ী হলে ৭ অক্টোবরের হামলার বিষয়ে তদন্ত করে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে পারে নেতানিয়াহু সরকারকে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই লিকুদ পার্টির নির্বাচনে অংশ নেয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। নির্বাচনের মাত্র দুইদিন আগেও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তেল আবিবে সমাবেশ করে হাজার হাজার ইসরাইলি।
তবে ইসরাইলের ক্ষমতায় যেই আসুক তা নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নয় ফিলিস্তিনিরা। বাসিন্দাদের মতে, নেতানিয়াহু পরাজিত হলে এটি হবে গাজাবাসীর জয়। তবে ভবিষ্যৎ ভাগ্য পরিবর্তন নিয়ে সন্দিহান তারা।
আরও পড়ুন:
এবারের নির্বাচনে মোট ৭৩ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিকও রয়েছেন। এছাড়া, গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলি ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। এসব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটদানের হার বাড়লে ঘুরে যেতে পারে নির্বাচনের ফল। যদিও এখন পর্যন্ত এসব ছোট দলের সঙ্গে জোট বাঁধার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে প্রধান দুই জোট। তবে তাদের ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনও কঠিন হয়ে পড়বে দলগুলোর।
তবে ইসরাইলের নির্বাচন নিয়ে খুব একটা মাথাব্যাথা নেই ইরানের। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলের নির্বাচনের ফলাফলে তেহরানের কিছু যায় আসে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কে শাসনক্ষমতায় আসে তা নিয়ে ইরানের কোনো মাথাব্যথা নেই। তাদের অতীত কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে যে এই অঞ্চলের জন্য সহিংসতা ও হত্যা ছাড়া আর কোনো পরিণতি হয়নি। এই ৮০ বছর ধরে বিভিন্ন রূপে ফিলিস্তিনিদের হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলিরা।’
এদিকে, ইতিহাসের দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়ে খোদ ইসরাইলেই উঠেছে প্রশ্ন। তকমা পেয়েছেন যুদ্ধবাজ নেতা হিসেবে। দুর্নীতি ও ঘুষের মামলা অভিযুক্ত তিনি। এছাড়া, গাজায় গণহত্যার দায়ে যুদ্ধাপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে।





