মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নিয়ে উদ্বেগে ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিদেশে এখন
0

কেমন হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষ দুই বছর- নির্ধারিত হবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলের মাধ্যমেই। ভোটের ঠিক আগে উদ্বেগ স্পষ্ট ট্রাম্পের কণ্ঠে। বললেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের রায় ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টদের বিপক্ষে যাওয়া নতুন নয়। কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণে রিপাবলিকান- ডেমোক্র্যাট লড়াই কোথায় গিয়ে শেষ হবে- সে সিদ্ধান্ত দেবে মূলত ১০ অঙ্গরাজ্য। নির্বাচনি মানচিত্রে নীলের ঢেউ বয়ে যাবে, বলছেন বিশ্লেষকরা।

রাত পোহালেই ভোট। মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে গোটা মার্কিন ভূখণ্ডে। নির্বাচনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ- প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটি এবং উচ্চকক্ষ- সিনেটের একশোর মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হবে সারা দেশে।

সোমবার ভোটারদের সামনে নিজেদের শেষ বক্তব্য তুলে ধরেন কংগ্রেস প্রার্থীরা। কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়বে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তদন্তের সুযোগ পাবে ডেমোক্র্যাটরা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের রায় ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টদের বিপক্ষে যাওয়া নতুন নয়, এমন মন্তব্য করে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কা স্পষ্ট করলেন ট্রাম্প নিজেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যারা এবার আমাকে ভোট দিয়ে এনেছেন এবং গেল নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন, আমরা এত বিশাল জয় পেয়েছিলাম, তাদের বড় অংশের সমর্থন অব্যাহত থাকলে এবারও আমরা বিপুল ভোটে জিতবো। তবে রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট, ভালো বা মন্দ, ভালো প্রেসিডেন্ট, মহান প্রেসিডেন্ট, বা মন্দ- ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট যেই হোন না কেন, এমনটা সাধারণত ঘটে না। কোন এক কারণে, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতেন না। তাও আমরা এবার খুব জোরালো চেষ্টা করেছি।’

যুক্তরাষ্ট্রে কেমন হবে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছর-নির্ধারিত হবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলের মাধ্যমেই। নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের প্রতি রেকর্ড সর্বনিম্ন জনসমর্থন স্পষ্ট হয়েছে বিভিন্ন জরিপে। এমন পরিস্থিতিতে, রিপাবলিকান প্রার্থীদের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে গেলো ৩২ দিনে ২০টি অঙ্গরাজ্যে ঝটিকা সফর করেন ৮০ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট, তথ্য হোয়াইট হাউজের। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিশেষ করে দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে রিপাবলিকানদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও ক্ষমতাসীনদের প্রতি ক্ষুব্ধ অনেক ভোটার।

স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘৬ দশমিক ৫৭ ডলারে অর্ডার দেয়ার পরদিন যখন তেলটা এলো, তখন দাম বেড়ে ৬ দশমিক ৭৭ ডলার। আমাকেও বাড়তি টাকা দিতে হলো।’

আরও পড়ুন:

শুধু তেলের দাম নয়, প্রোপেন, বিদ্যুৎ আর তেলেই তো জীবন চলছে। আমার সামাজিক নিরাপত্তা আর রাষ্ট্রীয় অবসর ভাতা থেকে পাওয়া পুরো টাকা শেষ হয়ে গেছে। চেক পাওয়ার দুই দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।

বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যভেদে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে ৭টার মধ্যে শুরু হবে ভোট। শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে। একদিন আগ পর্যন্ত বিভিন্ন জরিপের ফল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বলছে, প্রতিনিধি পরিষদ ও উচ্চকক্ষ- সিনেট- দুটিরই নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হতে পারে ক্ষমতাসীনদের। প্রতিনিধি পরিষদ নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা জোরালো হলেও তুলনামূলক কঠিন- সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন।

তবে লাল শিবিরের আধিক্য কমে নির্বাচনি মানচিত্রে যে নীলের ঢেউ বয়ে যাবে, সে বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত বিশ্লেষকরা।

ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়া সেন্টার ফর পলিটিক্স পরিচালক ড. ল্যারি সাবাটো বলেন, ‘একটা নীল সাগর বয়ে যাবে। এর সহজ অর্থ হলো- বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের পরাজিত করে ডেমোক্র্যাটরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফিরে আসবে; বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদে, সম্ভবত সিনেটেও। বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নর পদেরও নিয়ন্ত্রণ নেবে ডেমোক্র্যাটরা, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট আধিপত্য ফিরবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মূলত ১০ অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের ওপর। এর বাইরে বিগত কয়েক নির্বাচনে জর্জিয়ায় ধারাবাহিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, আলাস্কা-ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যালটসহ নানা বিতর্কের জেরে আলোচনায় এসব অঙ্গরাজ্যও। ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট গণনায় হস্তক্ষেপ এবং মার্কিন নাগরিক নয়- এমন দাবিতে ২০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো আগাম ভোট গণনা সাময়িক বন্ধের চেষ্টা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ। শেষ মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টের বাধায় বাতিল হয় সে উদ্যোগ।

ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়া সেন্টার ফর পলিটিক্স পরিচালক ড. ল্যারি সাবাটো বলেন, ‘মজার ব্যাপার হলো, ট্রাম্প প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। তিনি প্রতিনিধি পরিষদে ৪১টি আসন হারিয়েছিলেন, যা ছিল অনেক। এবারও তিনি প্রায় একই রকম হারের কাছাকাছি চলে আসবেন। আর অবশ্যই, সিনেটে যদি তিনি সত্যিই হেরে যান, যেমনটা আমি মনে করি, তবে তা ২০১৮ সালের, অর্থাৎ তার প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনের চেয়েও খারাপ হবে। তখন তিনি সিনেট হারেননি। শুধু প্রতিনিধি পরিষদে হেরেছিলেন।’

এদিকে, আগাম ভোটদানে নতুন রেকর্ড গড়েছেন মার্কিন ভোটাররা। সোমবার বিকাল পর্যন্ত সরাসরি ও ডাকযোগে প্রায় পৌনে ছয় কোটি ভোট পড়েছে, যেখানে ২০২২ সালের সবশেষ মধ্যবর্তী নির্বাচনজুড়ে মোট ভোট পড়েছিল পাঁচ কোটির কম।

এফএস