যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের দলের বড় পরীক্ষা, ফল জানা যাবে কবে?

ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি গভর্নমেন্ট সেন্টারে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগাম ভোট গ্রহণ
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় আজ (মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর) সকালে প্রথম ভোটকেন্দ্র খুলেছে ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যে। এরপর নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া, কানেকটিকাট এবং কেনটাকি ও ইন্ডিয়ানার কিছু এলাকায় ভোট শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মধ্যবর্তী এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে কি না, তা নিয়ে নজর রয়েছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে চাইছে। তবে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে না। কিছু আসনের ফল দ্রুত জানা গেলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর ফল জানতে কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিনও অপেক্ষা করতে হতে পারে। এমন তথ্য উঠে এসেছে আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোট গ্রহণ ও গণনার নিয়ম এক নয়। ফলে কোথাও দ্রুত ভোট গণনা শেষ হলেও কোথাও ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট, অস্থায়ী ব্যালট এবং স্বাক্ষর যাচাইয়ের কারণে ফল প্রকাশে দেরি হতে পারে।

কখন বন্ধ হবে ভোটকেন্দ্র?

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যভেদে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার সময় আলাদা। প্রথম দফায় ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কিছু এলাকায় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ভোট গ্রহণ শেষ হবে। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টার দিকে এসব এলাকার ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কথা।

এরপর বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ধাপে ধাপে ভোট গ্রহণ শেষ হবে। আলাস্কায় সবচেয়ে শেষে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কথা, বাংলাদেশ সময় বুধবার দুপুরের দিকে। ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রাথমিক ফল আসতে শুরু করতে পারে। তবে সব অঙ্গরাজ্যের ভোট গণনা শেষ হতে আরও সময় লাগবে।

আরও পড়ুন:

কখন জানা যাবে নির্বাচনের ফল?

ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর মঙ্গলবার রাত থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের প্রাথমিক ফল আসতে শুরু করবে। তবে প্রাথমিক ফল প্রকাশ এবং কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা এক বিষয় নয়।

ভোট গণনার তথ্য প্রকাশ করেন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের মতো সংবাদমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থাগুলো বিভিন্ন এলাকার ভোটের ফল বিশ্লেষণ করে কোনো আসনে বিজয়ী নির্ধারণ করে। কোনো আসনে ব্যবধান স্পষ্ট হলে দ্রুত বিজয়ী ঘোষণা করা সম্ভব। কিন্তু হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলে ফল ঘোষণায় দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

এ ছাড়া ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট, অস্থায়ী ব্যালট এবং স্বাক্ষর যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ভোট গণনা সম্পন্ন হয় না। এসব কারণে কোনো কোনো অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের রাত পেরিয়ে যাওয়ার পরও ভোট গণনা চলতে পারে। চূড়ান্ত ফল জানতে কয়েক দিন, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে।

কোন অঙ্গরাজ্যে ফল আসতে দেরি হতে পারে?

সব অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনার গতি এক রকম নয়। ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটনের মতো অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে ভোটের ব্যবহার বেশি। সেখানে নির্বাচনের দিন বা তার পরেও নির্দিষ্ট নিয়মে পাওয়া ব্যালট গণনা করা হয়। ফলে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই সব ভোটের হিসাব পাওয়া যায় না।

অ্যারিজোনায় নির্বাচনের দিন জমা দেয়া ডাকযোগের ব্যালটে স্বাক্ষর যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ফল প্রকাশে সময় নিতে পারে। নেভাদায় নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যে ভোটের ব্যবধান কম হলে ফল জানতে আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে।

অন্যদিকে ফ্লোরিডা, ওহাইও ও নর্থ ক্যারোলাইনার মতো অঙ্গরাজ্যে অতীতের নির্বাচনে তুলনামূলক দ্রুত ভোট গণনা শেষ হয়েছে। তবে এবারও একই গতিতে ফল প্রকাশ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

আরও পড়ুন:

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেতে কত আসন দরকার?

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের সামনে আলাদা হিসাব রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের নিট তিনটি আসন বাড়াতে হবে। আর সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন নিট চারটি আসন।

এ কারণে জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, ফ্লোরিডা, মেইন, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও মিশিগানের মতো অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি আসনের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে। এসব আসনের ফল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

ফল ঘোষণার পরও কি অনিশ্চয়তা থাকতে পারে?

কোনো সংবাদমাধ্যম কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করলেও সেটি সরকারি ও চূড়ান্ত ফল নয়। ভোট গণনা, যাচাই এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ফল অনুমোদনের প্রক্রিয়া বাকি থাকতে পারে। কোনো আসনে ভোটের ব্যবধান খুব কম হলে অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী পুনর্গণনা হতে পারে। আইনি চ্যালেঞ্জও ফল চূড়ান্ত হতে দেরি করাতে পারে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সর্বশেষ আসনের ফল নির্ধারণে ভোটের দিন থেকে আট দিনের বেশি সময় লেগেছিল। তাই এবারের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর দ্রুত কিছু ফল জানা গেলেও কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।

—আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে অবলম্বনে

এএম