রয়টার্স এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আবুধাবির এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন স্টিভ উইটকফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। এর আগে দুই সপ্তাহ আগে সেন্ট পিটার্সবার্গে উইটকফের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর তিনি নতুন এই ত্রিপক্ষীয় সংলাপে সম্মতি জানান।
উইটকফ আরও জানান, চলতি সপ্তাহে ব্রাসেলসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা। সেখানে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, ইউরোপের যুদ্ধপরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামো এবং ইউক্রেনের পুনর্গঠনে অর্থনৈতিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে শান্তিচুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়া এখনো অনেক দূরত্বে অবস্থান করছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় সর্বশেষ ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা জোরদার করেছে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে ইউক্রেনের ভিনিতসিয়া, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও খারকিভ অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে মস্কো। একই সঙ্গে ওডেসা অঞ্চলের বন্দর অবকাঠামো ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত জলযানে আঘাত হানা হয়েছে। অন্যদিকে সোমবার ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের একটি গ্রামে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্কুলে বিমান হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে ২৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও জরুরি সেবা বিভাগ। জেলেনস্কি বলেন, ‘মানুষ যখন আসছিল, ঠিক তখনই রুশরা প্রথমে হামলা চালায়—কয়েকটি বিমান থেকে ফেলা বোমা। এরপর দ্বিতীয় দফায় আশ্রয়কেন্দ্রটির ওপর আরও বোমা ফেলা হয়। এটি একটি জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা।’
পাল্টা হামলায় রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভল শহরের একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় গভর্নর মিখাইল এভরায়েভ জানান, হামলায় দুজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং সেখানে অগ্নিনির্বাপণের কাজ চলছে। এর বাইরে ইউক্রেনের জাতীয় জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানোর মোবাইল অ্যাপ হ্যাক করে কিয়েভের বাসিন্দাদের কাছে ভুল বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে আসন্ন পারমাণবিক হামলা, রাসায়নিক ঝুঁকি এবং কিয়েভের রাস্তায় সম্মুখযুদ্ধের ভুয়া সতর্কবার্তা ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছিল।
যুদ্ধপরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে ইউরোপের ১০টি দেশের প্রায় ২ হাজার ৮০০ সেনা চলতি মাসে পোল্যান্ডে প্রথম যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে যাচ্ছে। ‘মাল্টিন্যাশনাল ফোর্স—ইউক্রেন’ নামের এই বহুজাতিক বাহিনীর কোনো আক্রমণাত্মক লক্ষ্য নেই; যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত হলে তবেই কেবল তারা ইউক্রেনে মোতায়েন হবে। ৯ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেন সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব পোল্যান্ডে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানান, যুদ্ধ থামলে এই বাহিনী ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে মাঠে নামতে প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত মানবিক যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে রুশ বাহিনী নিজেদের সামরিক অবস্থান জোরদার করেছে বলে অভিযোগ করেছে কিয়েভ। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া ছয় দিনের এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে রুশনিয়ন্ত্রিত ওলেশকি শহর থেকে প্রায় ৮০০ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়। তবে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ দাবি করেছে, এই সাময়িক বিরতিকে সেনা পুনর্বিন্যাস, প্রতিরক্ষা জোরদার ও যুদ্ধক্ষেত্রের রসদ সরবরাহের কাজে লাগিয়েছে মস্কো। এ বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য তার জানা নেই, তবে যুদ্ধবিরতির সময় সামরিক অবস্থান পুনর্বিন্যাস করা স্বাভাবিক চর্চা এবং ইউক্রেনও একই কাজ করেছে বলে ধরে নেয়া যায়।





