জেসিএস জানিয়েছে, বুধবার ভোরে দক্ষিণ হামগিয়ং প্রদেশের সনডক এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ও ধরণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জেসিএস জানায়, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সুদৃঢ় যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আমাদের সামরিক বাহিনী উত্তর কোরিয়ার সার্বিক কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একইসঙ্গে যেকোনো ধরনের উসকানির কড়া জবাব দিতে আমরা পর্যাপ্ত সক্ষমতা ও প্রস্তুত অবস্থা বজায় রেখেছি।
জেসিএস-এর এক কর্মকর্তা জানান, উত্তর কোরিয়া হয়তো একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে—এমন সম্ভাবনা মাথায় রেখেই সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া যে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে থাকতে পারে, সে বিষয়টি খোলা রেখে আমরা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করছি।’ তিনি জানান, নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের অবিকল ধরণ এবং সেগুলো কোথায় আঘাত হেনেছে বা পড়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে প্রায় এক ডজন স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।
দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে দক্ষিণ কোরিয়া সেনা পর্যায়ের আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ওই পরীক্ষা চালানো হয়। সাম্প্রতিকতম এ হামলাটি হলো তার ঠিক কয়েক দিন পর।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার তারা কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহারযোগ্য একটি ক্লাস্টার বোমার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এ পরীক্ষার বিষয়টি শনাক্তের তথ্য আগে প্রকাশ করেনি।
এদিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরিতে জড়িত থাকার যে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র তুলেছে, উত্তর কোরিয়া বারবার তাকে ‘গুরুতর রাজনৈতিক উস্কানি’ ও ওয়াশিংটনের বৈরী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে নিন্দা জানিয়ে আসছে। এর মধ্যেই বুধবারের এ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনাটি ঘটল।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো-জং দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-তে প্রচারিত পর পর কয়েকটি বিবৃতিতে এ দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘শান্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসার সুযোগ খোলা থাকলেও উত্তর কোরিয়ার নিজস্ব স্বার্থের প্রয়োজনে তা আবশ্যক নয়।’
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই জানায়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ‘বাইন্যান্স’ থেকে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির নেপথ্যে উত্তর কোরিয়া জড়িত রয়েছে।





