সহকর্মীদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে হাকিম জেফ্রিস বলেন, প্রতিনিধি পরিষদ আর ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন কোনো অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে না। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের রাজনৈতিক বলয় বিপুল অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে। জনগণকে রক্ষা করতে এসব অনিয়মের সঙ্গে যুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। স্বাধীন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বিবিসিকে জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ইরান যুদ্ধই তাদের এই পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধকে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। তবে ট্রাম্প বলেছেন, একই পরিস্থিতি আবার সামনে এলে তিনি ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে ঠেকাতে আবারও যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তই নিতেন।
জেডি ভ্যান্সের এই পোস্ট ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির দায় থেকে সরিয়ে নিতেই ভ্যান্স এমন কৌশল নিয়েছেন। ট্রাম্পের সাবেক সমর্থক মারজোরি টেলর গ্রিন মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প কখনো নিজেকে দোষারোপ করেন না, ফলে পরাজয়ের জন্য হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে অন্যদের ওপর দায় চাপানো হবে। অন্যদিকে টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ এই নির্বাচনকে রিপাবলিকানদের জন্য ‘নীল সুনামি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
নির্বাচনের ফলাফলের ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। বিশ্ববাজারে খনিজ তেলের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ৭৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮৬ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমেছে। জ্বালানি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণের ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক পথ আবারও উন্মুক্ত হতে পারে এবং সংঘাত কমে আসতে পারে।
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত হলেও বেশ কয়েকটি আসনে ভোট গণনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ২৪টি আসনের ফল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, টেনেসি, লুইজিয়ানা ও ভার্জিনিয়ায় কয়েকটি আসনে দুই প্রার্থীর ব্যবধান খুবই সামান্য। সিনেটের মিসিসিপি ও আলাস্কা আসনেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। মিসিসিপিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কলোম অল্প ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। আর আলাস্কায় পছন্দক্রম (র্যাংকড-চয়েস) পদ্ধতির ভোট গণনার কারণে চূড়ান্ত ফল আসতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।
এবারের নির্বাচনে সীমান্ত রাজ্য টেক্সাসে ঐতিহাসিক পরিবর্তন দেখা গেছে। কয়েক দশক পর সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা সিনেটর ও গভর্নর পদে জয় পেয়েছেন। লাতিনো ভোটাররা ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ হিসেবে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির তথ্যকেন্দ্র (ডাটা সেন্টার) নির্মাণের বিরুদ্ধে ভোটারদের সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ওপেনএআই-এর সভাপতি ও সহপ্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ ব্রকম্যান।





