আরব সাগরে ড্রোন ভূপাতিতের পর সমঝোতার ডাক ট্রাম্পের, প্রতিশোধের হুমকি ইরানের

আরব সাগর ঘিরে উত্তেজনা
এশিয়া , উত্তর আমেরিকা
বিদেশে এখন
0

আরব সাগরে ড্রোন ভূপাতিত করার পর ইরানকে এখনই সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সেনাপ্রধান হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন, যেকোনো উসকানির প্রতিশোধ নিতে তারা প্রস্তুত। কোনো ধরনের আপস করবে না তেহরান। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কাতার। যদিও বৈঠকের স্থান নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি এখনো।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনায় পারস্য উপসাগরে মোতায়েন আছে যুদ্ধবিমান বহনকারী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ আরও দুটি যুদ্ধ জাহাজের বিশাল বহর। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরানে হামলা নয়, বরং আত্মরক্ষার প্রস্তুতি এটি। তবে এরই মধ্যে আরব সাগরে একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বিবৃতিতে জানিয়েছে, রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সুরক্ষার স্বার্থে একটি এফ-থার্টি ফাইভ সি যুদ্ধবিমান দিয়ে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়। যার অবস্থান ছিল ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে। শাহেদ-১৩৯ ড্রোনটি আক্রমণাত্মকভাবে মার্কিন বহরের দিকে আসছিল। সেনা ও ক্রুদের সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয় তারা।

ড্রোন ভূপাতিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর ট্রাম্প বলেন, ইরানকে সমঝোতায় আসতে এখনই আলোচনায় বসতে হবে। তবে বৈঠকের স্থান নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার পথ খোলা আছে। তারা কিছু একটা করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রও বিষয়টি দেখছে কিছু করা যায় কিনা। তাদের আরও আগেই তা করার সুযোগ ছিল, তবে তা কার্যকর হয়নি। ইরান কিছু একটা করতে চেয়েছিল। তবে এখন মনে হয় এমন কিছু করবে না। তবে তারা আলোচনায় রাজি।’

এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান বলেছেন, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনকারী যেকোনো সামরিক উসকানির প্রতিশোধ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত তারা। এ সময় তিনি সতর্কবার্তা দেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।

আরও পড়ুন:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ইরানের মৌলিক ও বৈধ অধিকারের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজেরদি।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজেরদি বলেন, ‘ইরানের সব দাবি-দাওয়া স্পষ্ট। অবশ্যই কাঠামোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইরান। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত থাকবে। কারণ এটি জাতির মৌলিক এবং বৈধ অধিকার। পারমাণবিক বোমা বা অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ইরানের নেই। ধর্মীয় বিশ্বাস ও সর্বোচ্চ নেতার মতামতের ভিত্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না।’

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি উদ্বেগ বাড়িয়েছে ইরানের বাসিন্দাদের মধ্যে। সম্ভাব্য মার্কিন হামলার শঙ্কায় আছেন তারা। অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কায় বিপাকে ইরানিরা।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনই উদ্বেগ বাড়ছে। দিন দিন জিনিসের দাম দ্বিগুণ হচ্ছে। রিয়ালের মান তলানিতে ঠেকেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, ‘একটি বিষয় আশ্বস্ত করছি যে, সব প্রতিবেশি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করছে কাতার। তুরস্ক একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। মিশর, ওমান এবং সৌদি আরবও এগিয়ে এসেছে। এই অঞ্চলে সম্মিলিতভাবে একটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। সবার যৌথ প্রচেষ্টায় উত্তেজনা কমবে এবং এই অঞ্চল রক্ষা পাবে।’

পরমাণু ইস্যুতে শুক্রবার ওয়াশিংটন-তেহরানের বৈঠকের পরিকল্পনা ঠিক থাকলেও, স্থান নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, তুরস্ক ছাড়াও ওমান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ বৈঠকের আয়োজক হতে আগ্রহী।

জেআর