ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে ইসি’র বিতর্কিত ভূমিকার প্রতিবাদে আবারও পুরনো ব্যাটেল গ্রাউন্ড দিল্লির যন্তর মন্তরে লাগাতার কর্মসূচি নিয়ে ফিরছে ককরোচ জনতা পার্টি। লোকতন্ত্র সংস্কারের একই দাবিতে গেল তিন দিন ধরেই দিল্লিতে চলছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের নানা কর্মসূচি। প্রতিবাদের হাওয়া বইছে বিহার থেকে ওড়িশা, উত্তর প্রদেশ থেকে ত্রিপুরা পর্যন্ত। সব মিলিয়ে উত্তাল ভারতের রাজনীতির মাঠ।
শনিবার ককরোচ পার্টি ঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে থমথমে দিল্লির পরিবেশ, এএনআই এর খবর, কেন্দ্রীয় পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজধানীতে সম্ভাব্য যেকোনো সহিংসতা মোকাবিলায় নামানো হয়েছে ২৩ হাজার নিরাপত্তা কর্মী। সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যকলাপের উপরও নিবিড়ভাবে নজর রাখছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। বিশেষভাবে মনিটর করা হচ্ছে সন্দেহভাজন ২ হাজার ৮০০ ব্যক্তির গতিবিধি।
ককরোচ পার্টির প্রতিবাদ কর্মসূচি’র আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জনসাধারণকে এই বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন দিল্লি পুলিশের ডিসিপি সৃষ্টি পান্ডে। সহিংসতা, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন বা পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা নিয়ে সতর্ক করেছেন জেন-জি আন্দোলনকারীদের। দিয়েছেন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি।
আরও পড়ুন:
যানজটের কারণ দেখিয়ে ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হযরত নিজামুদ্দিনগামী মেল/এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এই পদক্ষেপের সঙ্গে সিইসি-বিরোধী বিক্ষোভের যোগসূত্র থাকতে পারে আশঙ্কা ভারতীয় গণমাধ্যমের।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাজস্থান থেকে পার্টির মুখপাত্রকে আটকের পর সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিতের অভিযোগ, ১০ অক্টোবরের সমাবেশের আগে মোদি সরকারের নির্দেশে ককরোচ পার্টি, কৃষকদলসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ১০ হাজারেরও বেশি কর্মী সমর্থককে গেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে গেল তিন দিন ধরেই দিল্লির রাজপথে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট। পুলিশি বাধা, গ্রেপ্তার সব ছাপিয়ে সিইসি অপসারণের আগ পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ইন্ডিয়া ব্লকের নেতৃত্বে থাকা কংগ্রসের। ইন্ডিয়া ব্লক থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বার্তা, সংবিধান-লোকতন্ত্র-বাকস্বাধীনতার রক্ষার লড়াই শুরু হয়ে গেছে। লক্ষ্য অর্জনের আগ পর্যন্ত এই জনরোষ থামবে না।





