গাজা সিটিতে পানি সংকটে মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

গাজা সিটিতে পানি সংকট
মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
0

গাজা সিটিতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পানি সরবরাহ লাইন মেরামতে বাধা দিচ্ছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এ কারণে শহরটিতে ব্যাহত হচ্ছে ৭০ শতাংশ পানির উৎপাদন। শুষ্ক মৌসুমে যার সরাসরি খেসারত দিচ্ছে গাজা সিটির ৮৫ শতাংশ বাসিন্দা। পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে শহরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রবেশে ইসরাইলকে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবিক সংস্থা।

শুষ্ক মৌসুমে পানির আশায় খালি পাত্র নিয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে দুই শিশু। বছরের পর বছর ধরে পর্যাপ্ত খাবার, বাসস্থান চিকিৎসাসহ একাধিক মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত গাজার লাখ লাখ মানুষ। এবার গাজা সিটির মানুষের দুঃখ দুর্দশাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে পানি সংকট।

জাতিসংঘ জানায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরটির মেকোরোট নামে একটি পানি সরবরাহ লাইনে মেরামত কাজে বাধা দিচ্ছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। গাজা সিটিতে ৭০ শতাংশ পানির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। লাইনটির অবস্থান তথাকথিত ইয়েলো রেখায় এবং এটি ইসরাইল থেকে গাজায় প্রবেশ করেছে। একারণে জাতিসংঘের ক্রমাগত আহ্বান সত্ত্বেও, কর্তৃপক্ষকে লাইনটি মেরামতের অনুমতি দিচ্ছে না ইসরাইল।

টানা দুই বছরের ইসরাইলি আগ্রাসনে ভেঙ্গে পড়েছে গাজা সিটির বেশিরভাগ পানির অবকাঠামো। এ কারণে নিয়মিত পানি পাচ্ছেন না গাজা সিটির ৮৫ শতাংশ বাসিন্দা।

আরও পড়ুন:

গাজা পৌরসভার মুখপাত্র হুসনি মাহানা বলেন, ‘পানি সংকটের কারণে গাজা সিটির বাস্ত্যুচ্যুত মানুষদের পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপ হচ্ছে। শহরটির দশ লাখেরও বেশি মানুষ এর ভয়াবহ সাক্ষী। সব মিলিয়ে চলমান খাবার পানি সংকট স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।’

নলকূপগুলোতে নিয়মিত পানি না আসায় গাজাবাসীকে অপেক্ষা করতে হয় বিভিন্ন মানবিক সংস্থাগুলোর সরবরাহ করা পানির ট্রাকের দিকে। তবে যোগানের চেয়ে চাহিদা বেশি থাকায় খালি পাত্রেই বাড়িতে ফিরতে হচ্ছে অনেককে।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা ভয়াবহ পানি সংকটের সম্মুখীন। পাঁচ দিনে আমরা মাত্র এক থেকে দুই পাত্র পানি পাই। ইয়ারমুক এলাকার বাসিন্দারা, গৃহস্থালির জন্যও প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছে না।’

গাজায় পানি সরবরাহ সচল করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রবেশের অনুমতি দিতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে মানবিক সংস্থাগুলো।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মুখপাত্র প্যাট গ্রিফিথিস বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পানি ব্যবস্থা মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপ প্রবেশের অনুমতি দিতে ইসরাইলকে আহ্বান জানাচ্ছি। গাজার দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরাইলের উচিত এ অনুমতি প্রদান করা।’

জাতিসংঘের অনুমান, গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। এগুলো পুনরায় মেরামতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।

এসএস