মাত্র কয়েকদিন আগেও নজিরবিহীন সরকারবিরোধী আন্দোলনে টালমাটাল ছিল ইরান। মার্কিন হামলার আশঙ্কা, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও তেল বাণিজ্য ধসিয়ে দেয়ার হুমকি—সবকিছু মিলিয়ে এখনও স্বাভাবিক হয়নি ইরানের সার্বিক পরিস্থিতি। এরসঙ্গে যোগ হয়েছে পরমাণু ইস্যুতে তেহরান-ওয়াশিংটন সাম্প্রতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটও।
এতকিছুর পরেও মার্কিন কর্তৃত্ববাদী আগ্রাসনের সামনে মাথা নোয়াতে চায় না ইরানের সাধারণ জনগণ। দুই পক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমন আর পরমাণু ইস্যুতে বৈঠকের বিষয়ে খুব একটা আশাবাদী নন তারা।
ইরানীরা জানান, ২২ বছর ধরে তারা আলোচনা করেছে। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে একই আলোচনা হচ্ছে। প্রতিবার বৈঠকের পরেই পিছিয়ে যায় সমঝোতার সময়সূচি। কখনও এক সপ্তাহ, কখনও এক বছর।
ইরানী একজন বলেন, ‘যুদ্ধ কারোর জন্যই মঙ্গলজনক না। যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিম এশিয়া, আঞ্চলিক শক্তি কিংবা ইরান, ক্ষতি সবারই হবে। একটি যৌক্তিক সমাধানে আসতে হবে।’
তবে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধের নিষ্পত্তি করতে এখনও আগ্রহী ইরান। পরমাণু ইস্যুতেও আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় খামেনি প্রশাসন।
তবে সংকটের সমাধান চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতার মানসিকতা নিয়ে আলোচনার বসতে হবে বলে সাফ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করণের বিষয়ে ওয়াশিংটনের শর্ত মানতে বাধ্য নয় তেহরান।
আরও পড়ুন:
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ব্যাপারে অবস্থান বদলাবে না। আমাদের কী থাকা উচিত, আর কী থাকা উচিত নয়—এটা অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারে না। আমাদের মূলনীতি আমরা কারোর অধীনে থাকবো না। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ আমাদের অধিকার। আইন অনুযায়ী, এই অধিকার ব্যবহার করব কি করব না— সেটা আমাদের ব্যাপার।’
এদিকে, গত মাসে ইরান জুড়ে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনে জড়িত বহু ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি খামেনি প্রশাসন। এবার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আন্দোলন উসকে দেয়া ৪ নেতাকে আটক করলো ইরান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে খামেনি প্রশাসনকে উৎখাতের অপচেষ্টা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। আটকরা হলেন— ইরান রিফর্ম ফ্রন্টের আজার মানসৌরি, সাবেক কূটনীতিক মহসেন আমিনজাদেহ ও সাবেক পার্লামেন্ট মেম্বার ইব্রাহিম আসগরজাদেহ। আর চতুর্থ ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি তেহরান।
দেশটির বিচার বিভাগের একটি নথিতে বলা হচ্ছে, ইরান যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলার হুমকির মুখে ছিল তখন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বেসামাল করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল ইরান রিফর্ম ফ্রন্ট ও অন্যান্য সংষ্কারপন্থি দলের নেতারা।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা মিজান আরও দাবি করে, আন্দোলন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশের গোপন তথ্য পাচার করেন আটককৃত ওই ৪ জন।





