গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের দক্ষিণে মিনাব শহরের শাজারাহ তাইয়েবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলায় নিহত হয় ১৭৫ জন। নিহতদের বেশির ভাগের বয়স ছিলো ৭ থেকে ১২ বছর। যুদ্ধের প্রথম দিনই প্রাণ দিতে হলো নিরীহ এসব শিশুদের। বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় স্কুল ভবন। রক্তে ভিজে উঠে শিক্ষার্থীদের বই,খাতা, স্কুলড্রেস।
মর্মান্তিক এ হামলার জন্য শুরু থেকেই ইরানকে দায়ী করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বারবার দাবি করেন ইরানের হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন:
এবার খোদ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তদন্তে ধরা পড়েছে এ হামলার জন্য একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে প্রাণঘাতী টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মেয়েদের এ স্কুল ভবনে চালানো হামলাটি ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাকারীদের ভুল লক্ষ্যবস্তু। কারণ বিদ্যালয়ের পাশেই ইরানি একটি ঘাঁটি রয়েছে। এর আগে বিদ্যালয় ভবনটি ওই ঘাঁটিরই অংশ ছিলো।
তদন্তে জড়িত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মার্কিন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির দেয়া পুরোনো তথ্য ব্যবহার করে হামলার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। কেন তথ্য যাচাই করা হয়নি সে বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সব তথ্যই তদন্তের প্রাথমিক ফল।
এদিকে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে ইরান। যেখানে নতুন করে প্রমাণ মিলেছে যে এ হামলার জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু টুকরোতে উৎপত্তিস্থল, প্রস্তুতকারক ও যন্ত্রাংশের সিরিয়াল নম্বর রয়েছে। এগুলোর ওপর লেখা মেড ইন ইউএসএ। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে অভিযোগ তুলেছে তেহরান।
স্কুলে হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এর পেছনে কারা দায়ী তার জবাব চেয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে চিঠি দিয়েছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। যদিও এতে রিপাবলিকান কোনো আইনপ্রণেতা স্বাক্ষর করেননি। আর পিট হেগসেথের মতে, নির্ভুল অভিযান পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এয়ারওয়ার্স সংস্থার তদন্তে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার লক্ষ্যবস্তুর বেশিরভাগই ছিল ইরানের ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল। এতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও অনেক বেশি বলে দাবি সংস্থাটির।




