মতবিরোধ থাকলেও অটুট যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মিত্রতা

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মিত্রতা
উত্তর আমেরিকা , মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরকারপ্রধানদের মধ্যে চূড়ান্ত মতবিরোধ হলেও তেল আবিবের প্রতি ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে না। ঐতিহাসিকভাবেই ইসরাইলকে নিজেদের ঘনিষ্ঠতম মিত্র বিবেচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৫৬ থেকে ২০২৬— গেল ৭০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের স্বার্থের সংঘাত ও মতপার্থক্যের একটি খতিয়ান প্রকাশ করছে আল জাজিরা।

কূটনীতির জটিল সমীকরণে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে বৈরিতা নতুন কিছু না হলেও ট্রাম্প-নেতানিয়াহু’র সম্পর্কে ফাটল নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা এবং সেখানে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত- এ নিয়েই সম্প্রতি চিড় ধরেছে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সম্পর্কে। টেলিফোনে গালমন্দ থেকে শুরু করে জি-৭ এর মঞ্চ- প্রকাশ্যেই নেতানিয়াহুকে বাক্যবাণে জর্জরিত করেছেন ট্রাম্প।

তাহলে কী দীর্ঘদিনের মিত্রতা ভুলে এখন পরস্পরবিরোধী কৌশলে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ মেলাবে তেল আবিব-ওয়াশিংটন? আল জাজিরা’র বিশ্লেষণ বলছে, চূড়ান্ত মতবিরোধ হলেও তেল আবিবের প্রতি ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গি কখনোই বদলায়নি। এটা সত্যি যে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর নিয়ে আপাতত ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বোঝাপড়া হচ্ছে না কিন্তু লেনদেনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ওয়াশিংটন- তেল আবিব সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন:

১৯৫৬ থেকে ২০২৬- এই ৭০ বছরে বিভিন্ন পর্যায়ে, ইস্যুতে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। কায়রো’র সুয়েজ খাল জাতীয়করণের পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেন গুরিয়নকে মিশর থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন। এই ঘটনাকে ইসরাইলের ওপর সফলভাবে প্রয়োগ করা সবচেয়ে শক্তিশালী চাপ হিসেবে আখ্যা দেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

১৯৯১ থেকে ১৯৯২ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের পর আরব-ইসরাইল শান্তি আলোচনা চেয়েছিলেন জর্জ বুশ। পাশাপাশি অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকি এই সমস্যা সমাধানের আগ পর্যন্ত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ইৎজাক শামিরের প্রত্যাশিত ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা আটকে দেন তিনি।

১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। এই সাক্ষাৎ মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। নেতানিয়াহু নিজেকে কী মনে করেন, কে বড় পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র নাকি ইসরাইল-সহযোগিদের এমন প্রশ্নও করে বসেন ক্লিনটন।

গেল কয়েক দশকের মধ্যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মন কষাকষি ছিল বারাক ওবামার। অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলি বসতি নির্মাণ ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান ওবামা-নেতানিয়াহু। এর জেরে ২০১৫ সালে হোয়াইট হাউজের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই কংগ্রেসে ভাষণ দিতে আসেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।

এসএস