চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন ভোটার তথ্য চুরির অভিযোগ ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
উত্তর আমেরিকা
বিদেশে এখন
0

২০২০ সালের যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপ ছিলো বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই) ওয়াশিংটনে দেয়া প্রাইমটাইম ভাষণে একথা বলেন তিনি। এসময় ট্রাম্প আরও জানান, চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২২ কোটি ভোটারের তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ করেছে। এতে নাগরিকদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, রাজনৈতিক দলের পরিচয় এবং ভোটার নিবন্ধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে চীন।

২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বরাবরই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ওই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে তার পরাজয় কারচুপিপূর্ণ ছিল। অবশ্য ওই নির্বাচনে ট্রাম্পের হেরে যাওয়ার পেছনে বেইজিংয়ের কোনো হস্তক্ষেপ ছিলো না বলেও ২০২১ সালে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সেই সময়ের মার্কিন নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপ করেছে বলে আবারও অভিযোগের তীর ছুড়লেন ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে দেয়া প্রাইমটাইম ভাষণে একথা বলেন তিনি। ২৫ মিনিটে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২২ কোটি ভোটারের তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ করেছে।

আরও পড়ুন:

তার দাবি, এতে নাগরিকদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, রাজনৈতিক দলের পরিচয় এবং ভোটার নিবন্ধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে। এমনকি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চীনের তৎপরতা বিষয়টি ইচ্ছা করে আড়ালে রেখেছিল বলে মন্তব্য করেন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি পরিকাঠামোয় ভয়াবহ দুর্বলতা আছে। গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, চীন বিশেষভাবে এই নতুন প্রজেক্টের জন্য একটি তথ্য বিশ্লেষণ ইউনিট গঠন করেছে। পাশাপাশি ডিপ স্টেটের সদস্যরা চীনের জঘন্য নির্বাচনি হস্তক্ষেপের মাত্রা সম্পর্কিত তথ্যকে লঘু করে দেখানোয় কাজ করেছে।’

আরও পড়ুন:

তবে ট্রাম্পের দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ২৪ জন ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর। এক বিবৃতিতে তারা জানান, কোনো মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বই এই সত্যকে বদলাতে পারবে না যে মার্কিন নির্বাচন বারবার নিরাপদ ও সুরক্ষিত। এই ধরনের মন্তব্যের উদ্দেশ হলো ভোটারদের ভয় দেখানো এবং তাদের কণ্ঠরোধ করা।

এদিকে ট্রাম্পের এমন অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে চীন। সিএনএন-কে দেয়া এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত চীন দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানান, বেইজিং বরাবরই অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি মেনে চলে আসছে। হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তার মতে, চীন সম্পর্কিত তথ্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে এবং এমনকি ট্রাম্পের কঠোর ভাষা দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কেও চিড় ধরাবে বলে আশংকা তাদের।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই প্রাইম-টাইম ভাষণ নিজেদের মূল প্লাটফর্মে সম্প্রচার করেনি যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান টেলিভিশন এবিসি, এনবিসি ও সিএনএন। তবে যেসব টেলিভিশন তার ভাষণ সম্প্রচার করে নি তাদের লাইসেন্স বাতিল করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

এসএস