মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একাধিক জনমত জরিপে শক্তিশালী অবস্থানের আভাস পাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থনও তলানিতে। ভোটে এসব জরিপের প্রতিফলন ঘটলে মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ- প্রতিনিধি পরিষদ ও উচ্চকক্ষ- সিনেট- দু’টিরই নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হতে পারে ক্ষমতাসীনদের।
প্রকাশ্যে রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য পরাজয়ের বিষয়টি নাকচ করলেও, ২০২৭ সালে ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় ভোটের আগেই খুঁজছে বিকল্প পথ। সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর, সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত কর্মসূচি কীভাবে এগিয়ে নেয়া যায়, সে বিষয়ে কয়েক মাস ধরেই প্রস্তুতি চলছে হোয়াইট হাউজে। একইসঙ্গে বিরোধীদের উদ্যোগে রিপাবলিকান প্রশাসনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য তদন্ত মোকাবিলার প্রস্তুতিও চলছে।
অভিবাসন, শুল্ক, আবাসন ব্যয় এবং সরকারি ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প কী কী নির্বাহী পদক্ষেপ নিতে পারেন, তা নির্ধারণে যৌথভাবে কাজ করছেন বাজেট পরিচালক রাসেল ভট এবং হোয়াইট হাউজের আইনবিষয়ক দপ্তরের কর্মকর্তারা। ট্রাম্প এককভাবে আইনগতভাবে কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত করা সম্ভব এবং এসব সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে কীভাবে সেগুলোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা যায়- এসব খতিয়ে দেখার দায়িত্ব পেয়েছেন হোয়াইট হাউজের আইনবিষয়ক উপদেষ্টা উইল স্কার্ফ।
আরও পড়ুন:
রয়টার্স বলছে, এই প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা, আইন প্রণয়ন আটকে দেয়া এবং ব্যয় সীমিত করার সুযোগ পাবে ডেমোক্র্যাটরা। তবে বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতি এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ওপর প্রেসিডেন্টের ব্যাপক নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকবে- যা দ্বিতীয় মেয়াদে এরই মধ্যে বেশ আগ্রাসীভাবে প্রয়োগ করেছেন ট্রাম্প।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হলে সাময়িকভাবে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। রোববার প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক পোস্টের পডকাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতায় না পৌঁছানো পর্যন্ত শুধু ভেটো দেবেন তিনি।
এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীনরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিলেও, ডেমোক্র্যাটদেরও অলস বসে থাকার সুযোগ নেই, বলছেন বিশ্লেষকরা।
ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি কানসাস সিটির সহযোগী অধ্যাপক ডেবরা লেইটার বলেন, ‘বর্তমানে জনমত জরিপ পরিচালনায় বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা- মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করাই এখন কঠিন। তাই জনমত জরিপের পদ্ধতি বদলাতে হয়েছে। এখন আমরা মানুষকে খুদে বার্তা পাঠাই, অনলাইন থেকেও নমুনা সংগ্রহ করি। কিন্তু এসব পদ্ধতিতে সেই প্রচলিত, বৈজ্ঞানিকভাবে দৈবচয়নের ভিত্তিতে গড়ে তোলা আদর্শ নমুনা পাওয়া যায় না, যা জনমত জরিপের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।’
এর আগে ২০১৬ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, ২০২৪ সালে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস- দু’জনই নিজেদের প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের বিপরীতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত পরাজয় বরণ করেন।





