নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪-এর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ মাহামুদ জানান, যেসব কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, সেসব কারখানা আমরাসহ জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কারখানার শ্রমিকরা কোনো ধরনের সহিংসতা বা আন্দোলনে না জড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন।
তবে পরবর্তী সময়ে কয়েকটি কারখানার কিছু উসকানিদাতা শ্রমিক অন্য কারখানার শ্রমিকদের জড়ো করে সড়কে অবস্থান নেন বলে দাবি করেন তিনি।
আব্দুল্লাহ মাহামুদ বলেন, ‘এভাবে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক একত্র হন। সাধারণ শ্রমিকদের উসকানিদাতাদের কাছ থেকে আলাদা করাই ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল লক্ষ্য। কোনো সাধারণ শ্রমিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না।’
পুলিশ সুপার আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে নারায়ণগঞ্জের এনডিসি শাহরিয়ার পারভেজ জানান, শ্রমিক অসন্তোষ ও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আন্দোলনের বিভিন্ন বিষয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সন্ধ্যায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে স্বাভাবিক থাকলেও বেলা পৌনে ৩টায় দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্রমিকরা না নামলেও বেলা পৌনে ৩টার দিকে শিবু মার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য হিউম্যান চেইন করে ব্যারিকেড দিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও তা ভেঙে শ্রমিকরা মূল সড়কে উঠে আসেন।





