জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বস্তি

নিত্যপণ্যের বাজার
কাঁচাবাজার
বাজার
0

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে সারা দেশে বেড়েছে পরিবহন খরচ, যার আঁচ পড়েছে নিত্যপণ্যের দামে। সপ্তাহের ব্যবধানে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, যশোর ও ঠাকুরগাঁওয়ে বেড়েছে সবজি ও মাংসের দাম, এতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। তবে স্বস্তির খবর— চাঁদপুরে মৌসুমের শেষে কমেছে ইলিশের দাম।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চট্টগ্রামের বাজারে সরবরাহ বাড়লেও কমেনি সবজির দাম। সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে। আগাম শীতকালীন সবজিও চড়া দামে— শিম ২০০ ও বেগুন ১২০ টাকা কেজি। ডিম ডজন ১৫৫ টাকা, খাসির মাংস ৫০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ২৫০ টাকা।

বিক্রেতারা বলছেন, তেলের দামে পরিবহন খরচ বেড়েছে, প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যে। সরবরাহ কমায় বেড়েছে মাছের দামও।

রাজশাহীতেও টানা বৃষ্টি ও জ্বালানি তেলের দামে বেড়েছে সবজির দাম, কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা। খুচরায় দাম আরও বেশি। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি, আলু-পটল-করলার দামও ঊর্ধ্বমুখী। তবে কমেছে বেগুনের দাম, ১২০ থেকে নেমেছে ৬০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টি ও পরিবহন খরচ মিলিয়েই এই পরিস্থিতি।

বরিশালে সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও তেলের দামের প্রভাবে সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। উত্তরাঞ্চল থেকে সবজি আনার বস্তাপ্রতি ভাড়া ১২০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, ট্রাকপ্রতি বেড়েছে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা। পাতাকপি ৮০, শিম ১৬০ ও কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজিতে। এর আগে চাঁদাবাজি ও হামলার কারণে দু'দিন বন্ধ ছিল বেচাকেনা, প্রশাসনের আশ্বাসে ফিরেছে স্বাভাবিক অবস্থা।

যশোরে তেলের দামের প্রভাবে সপ্তাহ ব্যবধানে সব ধরনের মাংসের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা। গরুর মাংস ৮০০ টাকা, খাসির মাংস বেড়ে ১ হাজার ২০০ টাকা। পশুখাদ্য ও যাতায়াত খরচ বাড়ায় দাম বেড়েছে বলছেন ব্যবসায়ীরা, কমেছে বিক্রিও।

ঠাকুরগাঁওয়েও বৃষ্টি ও তেলের দামে সবজি সরবরাহে বিঘ্ন, বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। কাঁচামরিচ ১৫০, সিম ২০০ ও টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজিতে। বাজার মনিটরিং না থাকায় দাম বাড়ানোর অভিযোগ ক্রেতাদের, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যখন দেশজুড়ে বাজারে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে, তখন কিছুটা স্বস্তি চাঁদপুরে— মৌসুমের শেষে বেড়েছে ইলিশের সরবরাহ, কেজিতে দাম কমেছে প্রায় ২০০ টাকা।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির এই চাপ ও সরবরাহ স্বাভাবিক হলে, সেইসঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরলে বাজার আবারও সহনীয় পর্যায়ে ফিরবে— এমনটাই প্রত্যাশা ক্রেতা-বিক্রেতা সবার।

এসএইচ