জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা বলেন, ‘নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন:
বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন।
এদিকে সংসদ সদস্যদের শপথের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আগামীকাল সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ গ্রহণ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।’
এ বিষয়ে আজ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে দেয়া ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ গ্রহণ কক্ষে পরিচালনা করবেন।
আরও পড়ুন:
নিয়ম অনুসারে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে।
একনজরে মন্ত্রিসভার শপথ কার্যক্রম
- ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। যা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় সংসদ ও সন্নিহিত এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ থাকবে।
আরও পড়ুন:
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য কাল বেলা ১২টার পর থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে যান চলাচল বন্ধ বা সীমিত থাকবে।
-৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বড় স্ক্রিনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে ইসি সূত্র জানায়।
অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
আরও পড়ুন:
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
ইসি সচিব জানান, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দু’টি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।





