হাতুরির ঠুকঠাক, আগুনের ফুলকি আর রংতুলির আঁচড়ে চেষ্টা অভিশপ্ত এক কঙ্কালকে জীবন দানের। চেচিসের অংশ বিশেষ, পাটাতন, আর বডির অস্তিত্ব না থাকলেও এ বাসটি সড়কে চলবে আগামী ঈদে।
শ্রমিকদের একজন বলেন, ‘রং করা হবে বাসটিতে। বাসের যেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে সেগুলো পরিবর্তন করে দেয়া হবে। বাসটি আবার চলাচলযোগ্য করা হবে।’
শুধু মাত্র এই বাসটি নয়, রাজধানীর সাভার, গাবতলি, বেড়িবাঁধ, মাতুয়াইল যাত্রাবাড়ী ও সায়দাবাদসহ বিভিন্ন স্থানের গ্যারেজ গুলোতে চলছে এসব প্রাণহীন বাসে জীবন দানের কর্মযোগ্য। দম ফেলার সময় নেই মিস্ত্রী ও কারিগরদের। দুই একটি নতুন বাসের কাজ চললেও বেশির ভাগই ভাঙাচুরা লক্কড়ঝক্কর। আর বিআরটিএকে ঘুষ প্রদানের মধ্য দিয়ে বৈধতা পাবে এসব বাস। যা ২৫ রমজানের আগেই নামবে সড়কে।
শ্রমিকরা জানান, তারা দিনরাত কাজ করছেন। ২৫ রমযানের মধ্যে মালিককে গাড়িটি বুঝিয়ে দিতে হবে।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ রোড সেফটি ও যাত্রী কল্যাণ পরিষদের তথ্য বলছে, গেল বছরের দুই ঈদে মোট ৬৬৪টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৭১২ জন। আর আহত হয়েছে প্রায় ৩ হাজার জন। আর পুরো বছরে জুড়ে ৬ হাজার ৭২৯টি দুর্ঘটনা প্রাণ গেছে ৯ হাজার ১১১ জনের। যার মধ্যে ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশই বাস দুর্ঘটনা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছর ঈদ যাত্রায় শতাধিক প্রাণ ঝরলেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেয় না সরকার। দায়সারা অভিযান দেখা গেলেও ব্যর্থ বিআরটিএ। ফলে সারা বছর সড়ক ও উৎপাদন পর্যায়ে অভিযানের পাশাপাশি এবার ঈদে প্রাণহানি কমাতে নেয়া যেতে পারে বিকল্প ব্যবস্থা।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ হাদিউজ্জামান বলেন, ‘বিআরটিএ’র বড় একটি ঘাটতি আছে। যেভাবে তাদের কাজ করার কথা সেভাবে করছে না। ঈদের সময় হঠাৎ করে যাত্রীদের চাপ যেহেতু আসে, সেটি সামাল দেয়ার জন্য আমাদের বিভিন্ন বাহিনী থেকে শুরু করে পাবলিক ইউনিভার্সিটির যে বাসগুলো আছে সেগুলো যোগান দেয়া গেলে ঈদের সময় যানজট, দুর্ঘটনা ঠেকানো সম্ভব।’
এ বিষয়ে বিআরটিএ’র দায়িত্বরতদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংস্থাটি সক্রিয় করা পাশাপাশি কঠোরভাবে লক্কড়ঝক্কর বাস নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রীর।
সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়কে আমরা প্রেসার দিয়েছি, যেন ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো রং করে কোনোভাবে রাস্তায় না নামতে পারে। সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখা ও অভিযান চালানো হচ্ছে।’
যদিও এবার দুর্ঘটনা এড়াতে ঈদযাত্রায় বিশেষ প্রস্তুতির কথা বলছে সরকার। দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে থাকবে হেলিকপ্টার, মনিটরিংয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনেরও ব্যবহার করতে চায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে বছরের পর বছর বিশৃঙ্খল সড়ক কতটা শৃঙ্খল করতে পারবে বর্তমান সরকার সেটি দেখতে অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।




