শুটিং-আরচারিতে বছরব্যাপী ট্রেনিংয়ের পরিকল্পনা সরকারের: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

গাজীপুর
টঙ্গীর আরচারি ট্রেনিং একাডেমি পরিদর্শন করেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
এখন মাঠে
দেশে এখন
0

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে শুটিং ও আরচারির মতো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ইভেন্টগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সাফ গেমস, এশিয়ান গেমস এবং অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক আসরে পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এশিয়ান গেমসের পর থেকেই বছরব্যাপী নিবিড় ট্রেনিং কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ (শনিবার, ১ আগস্ট) টঙ্গীর আরচারি ট্রেনিং একাডেমি পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এসময় একাডেমির পাশে ময়লার ভাগাড় করার প্রক্রিয়া চলার বিষয়ে কঠোর ও আশ্বস্ত করার মতো অবস্থানের কথাও জানান তিনি।

টঙ্গীর আরচারি ট্রেনিং একাডেমির পাশে ময়লার ভাগাড় তৈরির উদ্যোগ নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, আরচারি দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় একটি খেলা এবং খেলোয়াড়দের অনুশীলনে বিঘ্ন ঘটে—এমন কিছু হতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, ‘আমাকে যদি ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেন, তাহলে আমার জায়গা থেকে যা যা করণীয়, আমি সব করার জন্য প্রস্তুত আছি।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে খুব বেশি সমস্যা হবে না। কারণ আমাদের আরচারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরচারির দিকে তাকিয়ে আছেন। তাই আরচারির সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে তাদের খেলায় যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে আমরা নজর রাখবো ইনশাআল্লাহ।’

আরও পড়ুন:

প্রতিমন্ত্রী দেশের ক্রীড়া খাতের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় শুটিং ও আরচারিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অলিম্পিকের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে একদম “জিরো” থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে।’

খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করতে এরই মধ্যে ১৫-১৬ জন আরচারকে পেশাগত স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রীড়াভাতা ও ক্রীড়াকার্ডের আওতায় আনা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন ক্রীড়াবিদ তুলে আনতে দেশজুড়ে ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ গড়ে তোলার এক বিশাল কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চলতি বছরই ১০টি স্পোর্টস ভিলেজের কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা দেশের ৬৪টি জেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। প্রতিটি স্পোর্টস ভিলেজে শুটিং ও আরচারির পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে, যাতে জেলার তরুণ প্রতিভাবানরা সহজেই জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসতে পারেন।’

এর আগে, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী টঙ্গীর আরচারি ট্রেনিং একাডেমিতে চলমান জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম এবং প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ আরচারি টুর্নামেন্ট পরিদর্শন করেন। সেখানে পৌঁছালে ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়া ও বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হানসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রতিমন্ত্রী সেখানে বিভিন্ন দেশের আরচারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রতি আস্থা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে, যারা দেশের আরচারিকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করে তুলতে কাজ করবে।’

এসএইচ