আজ (বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর) শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। সেখানে তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার বিষয়টি তাকে বিস্মিত করেছে।
ফেসবুক পোস্টে ঢাকা-১৫ আসনকে রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং জনগণের সুবিধা-অসুবিধা সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করা হলে বিষয়টি হয়তো আরও সমন্বিত ও ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।
তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছে। এ বিষয়ে আমারও দায়িত্ব রয়েছে এবং আমাকে সম্পৃক্ত করা যেত। পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে একটি উত্তম ও কার্যকর পথ বের করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সেই পথ অনুসরণ করা হয়নি।
আরও পড়ুন
হোপ মার্কেটের উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান সংঘাতের পরিবর্তে বাস্তবতা উপলব্ধি করে ব্যবস্থা নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের চলাচলের পথও নির্বিঘ্ন ও ব্যবহারোপযোগী থাকে। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ।
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, মাসের পর মাস ধরে একদল অসাধু ও চাঁদাবাজ ব্যক্তি এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নিয়ে তাদের এখানে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করে থাকে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড। এর ফলে শেষ পর্যন্ত এর আর্থিক বোঝা গিয়ে পড়ে সাধারণ ক্রেতা ও জনগণের ওপর।
তিনি বলেন, এভাবে আদায় করা অর্থের আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতা ও জনগণের ওপর গিয়ে পড়ে। তাই শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং সমন্বিত, সুপরিকল্পিত ও টেকসই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য কল্যাণকর হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়াই এখন সময়ের দাবি।
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার প্রয়োজন হলে তার আগে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়ার কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না, সেটিও ভেবে দেখা প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপ যেন সমন্বিতভাবে নেয়া হয় এবং সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করা হয় এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।





