‘আপনারা দেখেছেন, এরই মধ্যে আমরা সেই দাবি-দাওয়াগুলো বিবেচনা করার জন্য, পর্যালোচনা করার জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করেছি। মজুরি বোর্ড এরই মধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে।
‘ইনশাল্লাহ, আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে করে আমাদের প্রিয় শ্রমিক ভাই-বোনেরা একটু হলেও ভালো থাকতে পারে।’
আজ (বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বাগেরহাটের কাটাখালি মোড়ে এক পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।
দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘যেখানে আমরা মানুষের কর্মসংস্থানসহ শিল্পের প্রসার ঘটাতে চাচ্ছি, দেখেছেন শ্রমিক ভাই-বোনদের এই যে দাবি, এই দাবির অন্তরালে কিছু সংখ্যক লোক, একটি মহল দেশের ওপার থেকে, সীমান্তের ওপার থেকে তারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।
আরও পড়ুন:
‘আমি বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমজীবী ভাই-বোন, কোনো শ্রমিক ভাই-বোন শিল্পের কখনো ক্ষতি করতে পারে না। কিন্তু আমরা পত্র-পত্রিকাসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখলাম যে, এই উশৃঙ্খল তৈরিকারী, উশৃঙ্খলকারী সৃষ্টিকারী লোকগুলো—আমরা দেখেছি বিভিন্ন কলকারখানায় যাচ্ছে এবং এই কলকারখানাগুলো তারা ধ্বংস করছে, ভাঙচুর করছে, গাড়ি ভাঙচুর করছে, যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করছে, কারখানাগুলো ভাঙচুর করছে।’
তৈরি পোশাক শ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে, যা কার্যকর হয় পরের মাসে। সেই হিসাবে পোশাক খাতের বর্তমান নিম্নতম মজুরি হারের মেয়াদ শেষ হবে চলতি মাসেই।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তৈরি পোশাক খাতে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে গত ১ নভেম্বর ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের পাশাপাশি পোশাক শিল্পের জন্য বোর্ড গঠন করে সরকার।
পোশাক শিল্পের মজুরি বোর্ড বুধবার প্রথম সভা শেষে বলেছে, নতুন বেতন কাঠামো আগামী ডিসেম্বরে কার্যকর হবে, যা শ্রমিকরা হাতে পাবেন জানুয়ারি মাসে।
দেশের মিল-কারখানা যারা ধ্বংস করছে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ২০২৪ সালের মতো তাদের সমুচিত জবাব দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘আজকে যেহেতু জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেজন্যই জনগণের সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ গ্রহণ করেছে, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং সেটিকে এই ষড়যন্ত্রকারীরা ভেস্তে দিতে চাইছে। এর বিরুদ্ধে আজ জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে, এই দেশের শ্রমিক ভাইদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে যাতে কোনোভাবেই সেই ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ না পায়। কারণ আজকে সময় এসেছে আমাদের দেশ গঠন করার, আজকে সময় এসেছে আমাদের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার…আসুন, আমরা সকল শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের সঠিক জবাব দেব, আমরা সকল শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে, খেটে খাওয়া মানুষকে সাথে নিয়ে, শ্রমিক ভাই-বোনদেরকে সাথে নিয়ে ইনশাল্লাহ জবাব দেব।’
আরও পড়ুন:
তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালে যেভাবে মানুষ উচিত জবাব দিয়েছিল—বাংলাদেশের মানুষ, একইভাবে সামনের দিনেও আমরা তাদের উচিত জবাব দেব।’
এদিন মোংলা বন্দরের কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে খুলনা রওনা হন।
পথে কাটাখালির সভায় তিনি বলেন, ‘যারা বিগত ১৫-১৬ বছরে দেশের অবস্থার, মানুষের অবস্থার পরিবর্তন পারেনি, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যারা এদেশ থেকে মানুষের অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল, আমরা দেখছি ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টে জনগণের আন্দোলনে, জনগণ গণঅভ্যুত্থানের কারণে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আজ আমরা দেখছি তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়াচ্ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা, একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, তারা দেশের মিল-কারখানা ভেঙে দিতে যাচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই কারখানাগুলো হচ্ছে দেশের সম্পদ। এই মিল-কারখানাগুলো হচ্ছে দেশের মানুষের সম্পদ। এই মিল-কারখানাগুলো হচ্ছে এই দেশের শ্রমিকদের সম্পদ। এই মিল-কারখানা যদি ধ্বংস হয়ে যায়, সবচেয়ে প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষ। এই মিল-কারখানা যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমার শ্রমিক ভাই ও বোনেরা, এই মিল-কারখানাগুলো যদি ধ্বংস হয়ে যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনদের সন্তানেরা; তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে।’





