কৃষিতে সংকটের ছায়া, বাজেটে বাড়বে কি কৃষকের প্রাপ্তি?

কৃষি খেত
কৃষি , গ্রামীণ কৃষি
দেশে এখন
1

খাদ্য-পুষ্টির চাহিদা মেটাতে কৃষির বিকল্প নেই। তবে নানামুখী সংকটে বাজেটে উপেক্ষিত এ খাত। জ্বালানির উচ্চমূল্য, সার-সেচের খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে কৃষি উৎপাদন ও ন্যায্যদাম নিয়ে চিন্তার ভাঁজ কৃষকের কপালে। এমন বাস্তবতায় তাদের মনে একটাই প্রশ্ন- কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ কিংবা ভর্তুকির পরিমাণ বাড়বে তো?

সোনারঙা ফসলের প্রাচুর্যতায় ভরা জমিন। বিস্তর ফসলের মানচিত্র। যে মানচিত্রের রূপকার প্রান্তিক কৃষক। সোনালি ধানের এ যে দোলা, সে তো আন্দোলিত করে কৃষককেও। চওড়া হয় তাদের মুখের হাসি।

উর্বরা এ মাটির সাথে নিবিড় সখ্যতা মানিকগঞ্জের কৃষক আব্দুল হাকিমের। যার ফসলের সাথে মিশে আছে যার শ্রম-ঘাম। লাভ-লোকসানের টালিখাতায় উত্থান-পতন যতই হোক তার মতো অনেককেই আঁকড়ে থাকতে হয় এ জমিনেই। একজন কৃষক বলেন, ‘বর্তমানে ধান চাষ করে যে দাম পাওয়া যায় তা দিয়ে আর আমাদের চলছে না।’

দেশের অর্থনীতি সচল রাখা, খাদ্য-পুষ্টির চাহিদা মেটানো কিংবা মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণে কৃষির বিকল্প নেই। কিন্তু নানামুখী সংকটে উপেক্ষিত দেশের কৃষিখাত। বছর বছর কমেছে জাতীয় বাজেটে কৃষির অংশীদারিত্ব।

আরও পড়ুন

সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্বালানি-বিদ্যুতের উচ্চমূল্য, আর সার আমদানির ব্যয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির ফারাকে চিরেচ্যাপ্টা কৃষক। সার-কীটনাশকের দাম বেশি থাকায় লাভ না হওয়া কথা বলছেন কৃষকরা।

পরিসংখ্যান বলছে, দেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান প্রায় ১১ শতাংশ। কিন্তু আকস্মিক বন্যা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা সংকটে ব্যাহত উৎপাদন ব্যবস্থা। এমন বাস্তবতায় কৃষকের ভাগ্যের চাকা সচল রাখতে কতটা সহায়ক হবে সরকার? আসন্ন বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ বা ভর্তুকির পরিমাণ বাড়বে তো?

একজন কৃষক বলেন, ‘আমাদের দিকে সরকার তো কোনো নজরই দেয় না। যে সরকারই আসুক না কেন।’

অতীতের বাজেট বিশ্লেষণ বলছে, মোট বাজেটের ১০ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে কৃষি খাতের বরাদ্দ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যার পরিমাণ ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষিখাতে বরাদ্দ ছিলো ৪৭ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪-এ যা ছিলো ৫৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরাদ্দ ৪৮ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা।

হিসাব বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কৃষিখাতে ভর্তুকি দেয়া হয় ২৬ হাজার ৭৪৪ হাজার কোটি টাকা। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ভর্তুকির পরিমাণ কমে হয় ২৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভর্তুকি কমে হয় ১৭ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। আসন্ন বাজেটে সার, বীজ, সেচসহ কৃষিঋণ সহায়তায় এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমপক্ষে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি উঠেছে জোরেশোরেই।

দেশের কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে শুল্ক কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় স্মার্ট কৃষির উপকরণের জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দের ওপর জোর দেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

কৃষি অর্থনীতিবিদ কাশফিয়া আহমেদ বলেন, ‘শুল্ক তো অবশ্যই কমাতে হবে। আর আরেকটি বিষয়ের ‍ওপরে আমাদের নজর দিতে হবে। আমাদের দেশিয় কাঁচামাল ব্যবহার করে দেশিয় উদ্যোক্তারা কিন্তু এ মেশিনগুলো বানাতে পারে। এ জন্য সরকারকেও বরাদ্দ রাখতে হবে।’

কৃষিখাতে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ানোর সঙ্গে সেচ ব্যবস্থা ও সারের চাহিদা মেটাতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশিয় কাঠামোকে শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

কাশফিয়া আহমেদ বলেন, ‘ভুত্তকি কিন্তু সরকার প্রতিবারই দেয় কৃষিতে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত পরিমাণে না। আমরা আমাদের খাতকে সমৃদ্ধ করতে পারলে বাহিরের দেশের ‍ওপর নির্ভলশীলতা কমে আসবে।’

কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়ানোকে শুধু ব্যয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা হলেই নিশ্চিত হতে পারে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা।

জেআর