সারজিস আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে পাশাপাশি রেখে তুলনা করবো না। আওয়ামী লীগ খুনি, স্বৈরাচারী, গণহত্যাকারী। আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে পতন হয়েছে আর ভারতে গিয়ে দাফন হয়েছে। তাদের চ্যাপ্টার ক্লোজ।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির সমালোচনা আমরা করবো। তাদের চাঁদাবাজি, জমি দখলবাজি, ভূমিদস্যুতা, থানা দখল, অফিস দখলের কঠোর সমালোচনা করবো। কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তুলনা করবো না।’
এসময় বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলি বিএনপির ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্ট নই। তারা ধীরে ধীরে লাইনচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। তারা প্রত্যেকটা জায়গায় দলীয়করণ করছে। তারা স্বজনপ্রীতি করছে। বিসিএস ভাইবাতে তারা ৪০০ শতাংশ নম্বর বাড়িয়েছে। যেন কেউ প্রিলি কোটায় টিকলে তাদের দলীয় কোটায় চাকরি দেয়া যায়। আমরা মনে করি বিএনপির এই পুরনো কায়দা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের জায়গা থেকে, আমরা মনে করি এই কায়দাটা—এটা হচ্ছে পুরনো কায়দা, এটা থেকে বের হয়ে আসতে হবে তাদেরকে। আমরা এটার যৌক্তিক সমালোচনা করবো। বিএনপিকে এটা থেকে বের হইতে হবে। যদি না হয়, আমাদের রাজপথের কর্মসূচি আরও শক্তিশালী হবে। এজন্য আমরা বিএনপির কাছে আহ্বান জানাবো।’
আরও পড়ুন:
সারজিস আলম বলেন, ‘প্রশাসনে ডিসি, এসপি, ওসি, ইউএনও সবগুলো বিএনপির নেতা বিএনপির অফিস থেকে চালাইতে চায়, তাদের মতো করে। তারা যদি এটা থেকে বের না হয়, তাহলে বাংলাদেশের যে সংস্কারটা আমরা চাই সেটা তো হওয়া সম্ভব নয়। তো আমরা প্রত্যাশা করি, বিএনপি এই পুরনো চরিত্র থেকে, পুরনো অভ্যস্ততা, পুরনো মনস্তত্ব থেকে বের হয়ে আসবে।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘অন্যথায় ধীরে ধীরে বাংলাদেশে বিএনপির রাজনীতি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে। এগুলো যদি করতে থাকে, গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে পাঁচ বছর বিএনপির জন্য ক্ষমতায় টিকে থাকা আমরা মনে করি যে সম্ভব হবে না।’
এসময় তিনি পে-স্কেল বাড়ানোতে সরকারকে সাধুবাদ জানান।
সারজিস আলম বলেন, ‘যে বেতন স্কেল ছিল, এটা দিয়ে এখনকার দিনে একজন মানুষ ওই চাকরি করে তার পরিবার নিয়ে কোনোদিন চলতে পারবে না। এখন আমরা ওই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আহ্বান জানাবো যে, জনগণের পক্ষ থেকে জনগণের কষ্টের অর্জিত টাকা, ট্যাক্সের টাকা আপনার বেতন বাড়ানো হয়েছে। আপনারা এখন আপনাদের দায়িত্বটা, পেশাদারিত্বটা, সততাটা এটা সর্বোচ্চ দেখানোর চেষ্টা করেন। এরপরও যদি আপনাদের মধ্যে আমরা এই দুর্নীতি দেখতে পাই, আমরা যদি টাকার বিনিময়ে কাজ দেখতে পাই, তাহলে আমরা মনে করি হয়তো আগামীতে যদি আবার মানে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের বিরুদ্ধে নামবে। ওই দিন আর কেউ অফিস-টফিস করতে পারবেন না।’
আরও পড়ুন:
এর আগে তিনি এনসিপির ভোলা জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অংশ নেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, এনসিপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, এনসিপির যুবশক্তির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টি কেন্দ্রীয় সদস্য কাজী সালমান, রায়হানুল ইসলাম।
এছাড়া ভোলা জেলা এনসিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, আহ্বায়ক মো. মাকসুদুর রহমানসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।





