পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদিসের (Quran and Sahih Hadith) সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, কোরবানির পশুর কিছু অংশ খাওয়া সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ এবং কিছু অংশ খাওয়া মাকরুহ বা অত্যন্ত অপছন্দনীয়। ঈদের দিন গোশত কাটার সময় কোন কোন অংশগুলো বাদ দিতে হবে, তা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন:
পশুর রক্ত ও ইসলামে এর বিধান (Flowing Blood is Haram in Islam)
কোরবানির পশুর গোশত খাওয়া হালাল হলেও পশুর দেহ থেকে বের হওয়া রক্ত খাওয়া ইসলামে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ বা হারাম (Haram)। পবিত্র কোরআনে প্রবাহিত রক্তকে অপবিত্র বা ‘রিজস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই পশু জবাইয়ের পর এবং গোশত কাটার সময় রক্ত যেন মাংসের সাথে লেগে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
নবীজি (সা.) পশুর যে ৭টি অংশ খাওয়া অপছন্দ করতেন (7 Parts of Animal Avoided by Prophet)
বিখ্যাত তাবেয়ি হজরত মুজাহিদ (রহ.) সুনানে বায়হাকির একটি হাদিসে বর্ণনা করেছেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরির (বা যেকোনো হালাল পশুর) বিশেষ ৭টি জিনিস খাওয়াকে অপছন্দ (মাকরুহ) করেছেন। এগুলো হলো:
১. প্রবাহিত রক্ত (Flowing Blood): পশু জবাইয়ের সময় শরীর থেকে যে রক্ত তীব্র বেগে বের হয়ে যায়।
২. নর পশুর গুপ্তাঙ্গ (Male Reproductory Organ): পশুর পুরুষাঙ্গ বা পুরুষ প্রজনন অঙ্গ।
৩. মাদি পশুর গুপ্তাঙ্গ (Female Reproductory Organ): স্ত্রী পশুর প্রজনন অঙ্গ।
৪. অণ্ডকোষ (Testicles): পুরুষ পশুর অণ্ডকোষ বা বীর্যথলি।
৫. মূত্রথলি (Urinary Bladder): পশুর প্রস্রাব জমার থলি।
৬. পিত্ত বা পিত্তথলি (Gallbladder): কলিজার সাথে থাকা তেতো তরল বা পিত্তথলি।
৭. মাংসগ্রন্থি (Lymph Nodes): চামড়া ও গোশতের মাঝে তৈরি হওয়া শক্ত গোল চর্বি বা জমাট মাংসগ্রন্থি (টিউমার সদৃশ অংশ)।
আরও পড়ুন:
বিশেষ শরিয়তি মাসআলা: ইসলামী ফিকহ ও ফতোয়া অনুযায়ী, এই ৭টি জিনিসের মধ্যে প্রবাহিত রক্ত খাওয়া সম্পূর্ণ 'হারাম'। আর বাকি ৬টি অংশ খাওয়া 'মাকরুহে তাহরিমি', যা হারামের কাছাকাছি এবং অত্যন্ত গুনাহের কাজ। তাই কোরবানিদাতাদের উচিত গোশত বানানোর সময় এই অংশগুলো সম্পূর্ণ কেটে ফেলে দেওয়া।
একনজরে কোরবানির পশুর নিষিদ্ধ ও অপছন্দনীয় অংশসমূহ (Quick Guide to Forbidden Animal Parts)
আরও পড়ুন:





