অভাবের সংসার। বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায়, আর ছোট্ট মুশফিকের বেড়ে ওঠা নানির স্নেহে। সেই গ্রামের ছেলেটিই বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি গায়ে চাপানোর স্বপ্ন ছুঁয়েছেন। এ যেন সংগ্রাম আর অধ্যবসায়ের এক অনন্য গল্প।
লালমনিরহাটের পাটগ্রামের সাহেডাঙা গ্রামে টেপ টেনিস বল দিয়েই ক্রিকেটে হাতেখড়ি মুশফিক হাসানের। একদিন হঠাৎ সুযোগ মেলে দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে। জীবনের প্রথম ক্রিকেট বলের ম্যাচেই গতির ঝলকে স্ট্যাম্প ভেঙে নজর কাড়েন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন পথচলা।
জেলা অনূর্ধ্ব-১৬, বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮, এরপর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ধাপে ধাপে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে জায়গা করে নেন এইচপি ইউনিট ও বাংলাদেশ ‘এ’ দলে। এবার বন্ধু নাহিদ রানার চোটে সুযোগ এসেছে জাতীয় দলে, বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফরের স্কোয়াডে মাত্র ১৭টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৫৭ উইকেট, তিনবার ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, কেন তাকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় পেসার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বিপিএলে খেলেছেন নোয়াখালি এক্সপ্রেস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, ঢাকা ক্যাপিটালস ও খুলনা টাইগার্সের হয়ে। ১০ ম্যাচে ৯ দশমিক ৯ শূন্য ইকোনমিতে নিয়েছেন ১৫ উইকেট। সেরা ১৮ রানে ৩ উইকেট।
নিজের সাফল্যে শুধু জাতীয় দলের দরজাই খোলেননি মুশফিক, বদলে দিয়েছেন পরিবারের জীবনও। এখন অপেক্ষা শুধু আন্তর্জাতিক মঞ্চে বল হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার। গ্রামের সেই টেপ টেনিস খেলা সেই তরুণ হয়তো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লিখবেন বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করা নতুন এক গতিতারকার গল্প।





