মর্যাদার ট্রফির অমর্যাদা— আবর্জনা রাখতে ব্যবহার!

মোহামেডানের ট্রফির শোকেসের ছবি
ফুটবল
এখন মাঠে
0

রেকর্ডবুকে ক্লাবের নামের পাশে একঝাঁক ট্রফি। ক্লাবের বোর্ড রুমের শোকেসে সাজানো আছে অর্জনের অনেক স্বীকৃতিই। তবে মোহামেডানের স্বর্ণালী যুগের ট্রফি খুঁজতে গেলে হতাশাই হবে ভক্তদের সঙ্গী। গৌরবোজ্জ্বল সত্তর, আশি কিংবা নব্বইয়ের দশকের প্রায় ৯৫ ভাগ ট্রফিই নেই সংগ্রহে। অনেক ট্রফিই এখন ব্যবহার হয় কাগজের আবর্জনা রাখার জন্যে।

ট্রফি নয়, যেন অ্যাশট্রে। যে ট্রফির জন্য একসময় জান বাজি রেখেছিলেন মোহামেডানের ফুটবলাররা, তাদের সেই ত্যাগ যেন ছাই হয়ে ঝরে পড়ছে। আর ট্রফির মান-মর্যাদা ধোঁয়া হয়ে উড়ে গেছে কবেই।

একদিন এই ট্রফিই ক্লাবের ফুটবলার কিংবা সমর্থকদের কাছে ছিলো আরাধ্য। অথচ সময়ের আবর্তনে এই ট্রফিগুলো যেমন রং হারিয়েছে, একইসঙ্গে হারিয়েছে কদরও।

সত্তর কিংবা আশির দশকের মোহামেডানের সাফল্যের গল্প দেশের ফুটবল অঙ্গনে রীতিমত কিংবদন্তির। কিন্তু সেই অর্জনগুলোর স্বীকৃতি ছিলো যেসব ট্রফি, তার কিছুই আজ আর অবশিষ্ট নেই।

মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় সাদা-কালোদের বোর্ডরুমে অনেক ট্রফি থাকলেও নেই সত্তর কিংবা আশির দশকের কোনো স্বীকৃতিই। সবচেয়ে পুরাতন ট্রফির মাঝে ১৯৯১ সালের ব্যাডমিন্টনের একটি ট্রফি নজরে আসে। আবার সংরক্ষণের অভাবে অনেক ট্রফি, কোনো খেলার স্বীকৃতি হিসেবে কবে ক্লাবঘরে এসেছে সেটা জানারও উপায় নেই।

আরও পড়ুন:

ক্লাবের স্বর্ণালী যুগের ফুটবলার এবং বর্তমান পরিচালক রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির নিজেও এখন টিভির সঙ্গে আলাপে স্বীকার করলেন ট্রফি সংরক্ষণ করার বেলায় উদাসীন ছিলো অভিজাত এই ক্লাবটি।

‘অনেক ট্রফি ছিলো। এর মধ্যে কিছু হয়তো নষ্ট হয়ে গেছে। আমি মনে করি, আমাদের এখন থেকে সংরক্ষণ করা দরকার। সেজন্য আমাদের যে হলরুমটা আছে, সেখানে সুন্দর করে ট্রফির জন্য একটা কেস করা দরকার। যেগুলো হারিয়ে গেছে, সেগুলোর রেকর্ড যদি থাকে, তাহলে কীভাবে এটা ওই আদলে আবারও তৈরি করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে।’

মোহামেডানের ঘরের ছেলে এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নিজেও হতাশ প্রিয় ক্লাবের ট্রফি ক্যাবিনেটের এমন খবরে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থেকে শুধু মোহামেডান নয়, সার্বিক ক্রীড়াঙ্গনের হারানো ট্রফিগুলো নিয়েই ভাবতে চাইছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

আমিনুল হক বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। যে কথাটি শুনলাম যে ট্রফিকে সিগারেটের অ্যাশট্রে হিসেবে ব্যবহার করছে, এটা আমার মনে হয় যে, মোহামেডানের সংশ্লিষ্ট প্রেসিডেন্ট এবং সাধারণ সম্পাদকসহ যারা আছেন, তারা এই বিষয়টিকে অবশ্যই নজরে আনবেন।’

১৯৩৬ সালে স্থানীয় মুসলিম যুবকদের ক্রীড়া সচেতন করার উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিলো মোহামেডান ক্লাব। পঞ্চাশের দশক থেকে ক্রীড়াঙ্গণের দর্পণ হয়ে উঠেছিলো ঢাকার মতিঝিলের এ ক্লাবটি। কিন্তু যাদের অর্জনের গল্পে ভারী হয়েছে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গণের ইতিহাস, তাদের বোর্ডরুমে স্থান পায়নি নিজেদেরই অর্জনের অনেক ট্রফি। যেগুলো আছে, সেগুলোর অবস্থাও খুব যে সুখকর, তেমনটাও বলা যায় না। এখন দেখার অপেক্ষা, মর্যাদার ট্রফির ‘মর্যাদা’ পুনরুদ্ধারে কতটা তৎপরতা দেখায় সংশ্লিষ্টরা।

এসএইচ