বিশ্বকাপ মাস্কট: হাসি, আনন্দ আর ইতিহাসের এক রঙিন কোলাজ

বিশ্বকাপের মাস্কট
বিশ্বকাপ , ফুটবল
এখন মাঠে
0

ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শুধু ট্রফিই নয়, প্রতিটি বিশ্বকাপ রেখে গেছে একেকটি স্মরণীয় ‘মাস্কট’—কখনও কমলা রঙের হাসিখুশি সিংহ, কখনও ভবিষ্যৎ থেকে আসা অদ্ভুত চরিত্র। বিশ্বকাপের সবচেয়ে ইউনিক মাস্কটগুলোর পেছনে আছে মজার গল্প, সাংস্কৃতিক পরিচয় আর ইতিহাস।

বিশ্বকাপ মানেই শুধু গোল আর ট্রফির লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগ, সংস্কৃতি আর রঙিন কিছু চরিত্র! যারা কখনও সিংহ, কখনও কমলা, কখনও আবার ছোট্ট টুপিওয়ালা বালক হয়ে জয় করেছে কোটি ভক্তের হৃদয়। ১৯৬৬ থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপের মাস্কটগুলো যেন ফুটবলের ইতিহাসেরই জীবন্ত গল্প; এক একটি মাস্কট যেন রঙিন এক যাত্রা!

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম অফিসিয়াল মাস্কট আসে ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে—নাম ওয়ার্ল্ড কাপ উইলি। একটি সিংহ, গায়ে ইউনিয়ন জ্যাকের জার্সি। এ ছোট্ট চরিত্রটাই বদলে দেয় বিশ্বকাপের মার্কেটিং দুনিয়া। ফুটবলের সঙ্গে বিনোদনের নতুন যুগ শুরু হয় সেখান থেকেই।

১৯৭০ মেক্সিকো বিশ্বকাপে আসে হাসিখুশি ছোট্ট ছেলে জুয়ানিটো— মাথায় সোমব্রেরো হ্যাট, পরনে মেক্সিকো জার্সি। লাতিন আমেরিকার সংস্কৃতি আর ফুটবল উন্মাদনাকে একসঙ্গে তুলে ধরেছিলো এই মাস্কট।

এরপর ১৯৭৮ আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে হাজির হয় গাউচিতো কাউবয় ধাঁচের পোশাক, গলায় স্কার্ফ আর মাথায় টুপি। আর্জেন্টাইন গাউচো সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি ছিলো সে।

১৯৮৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকো আবারও চমক দেয়। তারা নিয়ে আসে পিকে নামে একটা একটি ঝাল মরিচ! গোঁফ আর বড় টুপি পরা এই মরিচই হয়ে ওঠে বিশ্বকাপের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মাস্কটগুলোর একটি।

১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপে ফুটবল দুনিয়া মাতায় ফুটিক্স। নীল রঙের মোরগ ফ্রান্সের জাতীয় প্রতীক। ‘ফুটি’ ছিলো এতটাই জনপ্রিয় যে, বিশ্বকাপ শেষে খেলনা আর পোস্টারের বাজারে ঝড় তোলে।

২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে আসে গোলিও সিক্স। একটি হাসিখুশি সিংহ আর তার বন্ধু ফুটবল। আর ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ছিলো জাকুমি—সবুজ চুলের চিতা!

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে দেখা যায় ভিন্ন এক ধারণা। উড়ে বেড়ানো সাদা কাপড়ের মতো চরিত্র লায়িব। আরব সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী পোশাক থেকে অনুপ্রাণিত এ মাসকট খুব দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

এবারের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর মেক্সিকো তিন দেশের যৌথ আয়োজনের বিশ্বকাপ। এবার আছে নতুন আরও ৩ মাস্কট। তিন দেশ এক স্বপ্ন এক মঞ্চ! উত্তরের বরফ ঢাকা বন থেকে উঠে এসেছে ‘ম্যাপল— দ্য মিজ’। প্রাচীন সভ্যতার গর্জন বয়ে এনেছে ‘জাইয়ু— দ্যা জাগুয়ার’ আর স্বাধীনতার আকাশ চিরে নেমে এসেছে ‘ক্লাচ—দ্য বোল্ড ঈগল’।

একেকটি মাস্কট বিশ্বকাপের আবেগ, আয়োজক দেশের সংস্কৃতি আর কোটি ভক্তের স্মৃতির অংশ। গোলের উল্লাসের মাঝেও তাই রঙিন এ চরিত্রগুলো চিরকাল বেঁচে থাকে ফুটবল ইতিহাসের পাতায়!

এএইচ