ফিফা বিশ্বকাপ: গ্রুপ ‘এফ’ দিচ্ছে যুদ্ধের বার্তা!

ফিফা বিশ্বকাপ: গ্রুপ ‘এফ’
বিশ্বকাপ , ফুটবল
এখন মাঠে
0

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন কিছু গ্রুপ থাকে, যেখানে শুধু পয়েন্টের লড়াই নয়, মুখোমুখি হয় ইতিহাস, স্বপ্ন আর নতুন সম্ভাবনা। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’ যেন ঠিক তেমনই এক যুদ্ধক্ষেত্র।

একদিকে তিনবারের রানার্সআপ নেদারল্যান্ডস। বিশ্ব ফুটবলকে টোটাল ফুটবলের দর্শন উপহার দেয়া দলটি এখনও খুঁজছে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি।

ইয়োহান ক্রুইফ থেকে শুরু করে স্নাইডার, রবেন, ভ্যান পার্সি অসংখ্য কিংবদন্তির জন্ম দিয়েছে ডাচরা। এবার ভারজিল ফন ডাইকের নেতৃত্বে আবারও শিরোপার স্বপ্ন দেখছে অরেঞ্জ বাহিনী। তবে পথটা মোটেও সহজ নয়।

কারণ একই গ্রুপে আছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি জাপান। একসময় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই ছিল তাদের স্বপ্ন, আর এখন তারা বড় বড় দলকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেয়।

স্পেন, জার্মানি কিংবা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, সামুরাই ব্লুরা আর কোনোভাবেই আন্ডারডগ নয়। কুবো, মিতোমা আর কামাদাদের নিয়ে এবার তাদের লক্ষ্য ইতিহাসের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল।

আরও পড়ুন:

গ্রুপের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী সুইডেন। ইব্রাহিমোভিচের বিদায়ের পর অনেকেই ভেবেছিল ভাইকিংদের শক্তি কমে যাবে। কিন্তু নতুন নায়ক ভিক্টর গিয়োকেরেসকে সামনে রেখে আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে তারা। বাছাইপর্বে খুব একটা সুবিধে করতে না পারলেও প্লে অফের ফাইনালে লেভানডওস্কির পোল্যান্ডকে বিদায় করে বিশ্বকাপে পা রেখেছে সুইডিশরা।

‘এফ’ গ্রুপে আরও আছে আফ্রিকার নীরব যোদ্ধা তিউনিসিয়া। নিজেদের সপ্তম বিশ্বকাপ মিশনে নামছে তারা। তবে আগের ৬ বারের চেষ্টায় গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি আরব-আফ্রিকান দলটি।

বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য মেক্সিকোকে ৩-১ গোলে পরাজিত করা হয়তো তারকাখচিত দল নয়, কিন্তু কঠিন প্রতিরক্ষা আর দলগত শৃঙ্খলার কারণে যে কোনো বড় দলের জন্যই তারা হতে পারে অস্বস্তির কারণ। আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় লেখা দলটি এবার খুঁজছে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার প্রথম সাফল্য।

তিনবারের রানার্সআপদের অপূর্ণ স্বপ্ন, এশিয়ার নতুন শক্তির উত্থান, ভাইকিংদের প্রত্যাবর্তন আর আফ্রিকার নীরব যোদ্ধাদের ইতিহাস বদলের লড়াই। সব মিলিয়ে গ্রুপ এফ হতে যাচ্ছে রোমাঞ্চ, নাটক আর অনিশ্চয়তায় ভরপুর এক অধ্যায়।

প্রশ্ন একটাই শেষ হাসি কে হাসবে?উত্তর মিলবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।

এসএইচ