বিদায় বেলায় ‘অপরাজিত’ ইরানের খেলোয়াড়দের আবেগঘন চিঠি

টিম বাসে ওঠার মুহূর্তে ইরানের খেলোয়াড়রা
বিশ্বকাপ , ফুটবল
এখন মাঠে
0

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেশের ভেতরের অস্তিরতা আর তিব্র রাজনৈতিক চাপ। মাঠের বাইরের এমন হাজারো প্রতিবন্ধকতা মাথায় নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলতে এসেছিল ইরান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে শেষ করেছে তাদের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা। তবে ম্যাচ শেষে সিয়াটলের ড্রেসিংরুমে এক আবেগঘন হাতে লেখা চিঠি রেখে গেছেন ইরানি ফুটবলাররা। এতোসব রাজনৈতিক চাপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেন এমন চিঠি? আর কি বা আছে সেই চিঠিতে?

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে লড়তে হয়েছে মাঠের বাইরের নানান প্রতিকুলতার সাথে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাশের দেশ মেক্সিকো থেকে ভ্রমণ করে ম্যাচ খেলতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে এসে। এমনকি অন্য দলগুলোর মতো পায়নি কোন লজিস্টিক সাপোর্টও।

এতো কিছুর পরও গ্রুপপর্বে অপরাজেয় ছিলো ইরান। মিশরের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।

তবে অপরাজিত থেকেও শেষ ৩২-এ যাওয়া হয়নি ইরানের। কিন্তু বিশ্বকাপে টিকে না থাকলেও ড্রেসিংরুম ছাড়ার আগে ফুটবলাররা যা করলেন, তা আলোড়ন তুলেছে পুরো ফুটবল বিশ্বে। ড্রেসিংরুমের বোর্ডে তারা রেখে যান গভীর এক বার্তা।

যেখানে লেখা ছিলো— ‘আমরা ইরান থেকে এসেছি। এমন এক দেশ, যা হাজার বছর ধরে জয়ের চেয়ে সম্মানকে ওপরে স্থান দিয়েছে। আমাদের কাছে ফুটবল মানে শুধু ফলাফলের লড়াই নয়, এটি সক্ষমতারও প্রমাণ।’

আরও পড়ুন:

চিঠিতে ইরানি ফুটবলাররা ‘ফেয়ার-প্লে’ বা সততার ওপর জোর দিয়ে লেখেন, ‘পয়েন্ট হয়তো অনেক উপায়ে জেতা যায়, কিন্তু সম্মান নয়। কোনো দল হয়তো গ্রুপ পর্ব পার হতে পারে, কিন্তু ইতিহাসের সামনে কেবল সততা আর সম্মান নিয়েই মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যায়। ফেয়ার-প্লে ফুটবলের নিয়মের কোনো সাধারণ লাইন নয়, এটি এই খেলার আত্মা।’

একইসঙ্গে সিয়াটলের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ এবং সব ইরানি সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তারা লেখেন, ‘ইরান সবসময় মাথা উঁচু করে থাকবে।’

চলতি বিশ্বকাপে এটি ইরানের প্রথম এমন কাজ নয়। এর আগে বেলজিয়ামের সঙ্গে ড্রয়ের পরও লস অ্যাঞ্জেলেসের ড্রেসিংরুমে তারা শান্তি ও বন্ধুত্বের বার্তা দিয়ে চিঠি রেখেছিলেন।

নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ইরানের ফুটবলাররা যেন বুঝিয়ে দিলেন, ফুটবল কেবল গোল আর পয়েন্টের হিসাব নয়, এটি হৃদয় জয় করার মাধ্যম।

এসএইচ