যান্ত্রিক ত্রুটিতে অচল অধিকাংশ হারভেস্টার, আমন ধান কাটা নিয়ে শঙ্কা

একটি অচল হারভেস্টা
এখন জনপদে
কৃষি
0

শ্রমিক সংকট ও বাড়তি খরচের কারণে দিনাজপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে কম্বাইন হারভেস্টার। তবে দামি যন্ত্রাংশ ও মেরামত ব্যয় বাড়ায় চাপে পড়ছেন মালিকরা। জেলায় থাকা প্রায় ৫১০টি হারভেস্টারের বেশির ভাগই নানা যান্ত্রিক সমস্যায় অচল বলে দাবি তাদের। এতে আমন ধান কাটা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

শ্রমিকের তুলনায় কম সময় ও খরচে ধান কাটা-মাড়াই সম্ভব হওয়ায় ২০২২ সাল থেকে দিনাজপুরে জনপ্রিয়তা বেড়েছে কম্বাইন হারভেস্টারের। আমন মৌসুমে স্থানীয় চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় অনেক মালিক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই যন্ত্র পাঠিয়ে আয় করেন। তাই মৌসুম শুরুর আগেই চলছে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রস্তুতি।

কৃষকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এক বিঘা মাটির আমার ধান কাটার জন্য ৯০০০ টাকা খরচ হতো, মেশিনে আপনার ৩০০০ টাকায় আমার হয়ে গেলো।’

তবে যন্ত্রাংশের উচ্চমূল্য ও দক্ষ কারিগরের সংকট দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছের হারভেস্টার মালিকদের। ঘনঘন মেরামতে বাড়ছে পরিচালনা ব্যয়, কমছে মুনাফা।

হারভেস্টার মালিক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘এগুলার খরচ অনেক বেশি, পার্টসের দাম বেশি, মিস্ত্রি পাওয়া যাচ্ছে না, মেকানিক পাওয়া যাচ্ছে না। পার্টস ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না।’

হারভেস্টার মালিক শাকিল হোসেন বলেন, ‘টায়ারটা বেশি নষ্ট হয়। এই টায়ারটা বাংলাদেশের সব এভেইলেবল পাওয়া যায় না, এটা চায়না থেকেই নিয়ে আসতে হয় আমাদেরকে। তো আনতে অনেক সময় লাগে এবং ব্যয়বহুল খরচ। একটা মিস্ত্রি আনতে গেলে দূর থেকে হ্যাঁ, মিস্ত্রিটা আজকে পাঠাবো কালকে পাঠাবো, এতে কিন্তু ১০-১৫ দিন কাটি যায়।’

আরও পড়ুন:

দিনাজপুর হারভেস্টার মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ‘পার্টসের দাম বেশি, তেলের দাম বেশির কারণেই তখন এই হারভেস্টার মালিকরা করতেছে কি যে যেহেতু গাড়িগুলো অল্প সময় টিকতেছে, আমাদের টাকা তুলতে হবে, পার্টসের যন্ত্রাংশের দাম বেশি তখন এরা মাঠপর্যায়ে দাম বাড়াইয়া দিচ্ছে।’

কৃষি বিভাগের হিসেবে জেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ ধান কাটার চাহিদা পূরণ করছে কম্বাইন হারভেস্টার। এতে সাশ্রয়ী হচ্ছে কৃষকের সময় ও উৎপাদন খরচ।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার শাহ আলম মিয়া বলেন, ‘ছোট্ট পরিসরে একটা টেকনিক্যাল পারসন তৈরি করার জন্য বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে আমরা কাজ করছি। এককথায় বিভিন্ন সরবরাহকারী যে প্রতিষ্ঠান, তাদের যে টেকনিক্যাল পারসন এবং হারভেস্টারের যন্ত্র প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই যারা উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে বা তৈরিটা, তারাও কিন্তু এই সেবাগুলো দিয়ে থাকছেন। এটা দিন দিন আরও বাড়বে।’

আরও পড়ুন:

দিনাজপুরে এবার আমনের আবাদ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার হেক্টরে। এবারও বেশিরভাগ ধান কাটা হবে এই যন্ত্র দিয়ে। তবে মুনাফা কমে যাওয়ায় সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখছেন মালিকরা। তাই এ খাতকে টেকসই করতে সহজলভ্য যন্ত্রাংশ, দক্ষ কারিগর ও সাশ্রয়ী মেরামত সেবা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন হারভেস্টার মালিকরা।

এসএস