অর্ধশত কোটি টাকা খরচ; বছর ঘুরতেই ভাঙনের আতঙ্কে খোয়াইপাড়ের মানুষ

হবিগঞ্জ
খোয়াই নদীর বাঁধ ভাঙন
এখন জনপদে
0

প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে। কিন্তু বর্ষা এলেই সেই বাঁধে দেখা দেয় ভাঙন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও সড়ক। আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে নদীতীরের মানুষের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরেই নদীর বাঁধ উন্নয়নে খরচ হয়েছে অর্ধশত কোটি টাকার বেশি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এত টাকা খরচের পরও কেন স্বস্তি ফিরছে না জনমনে?

সারা বছর শান্ত থাকা খোয়াই নদী বর্ষায় কখনো কখনো রুদ্র রূপ ধারণ করে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভাসিয়ে নেয় সবকিছু, আবার কখনো বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত হয় সহায়-সম্বল।

চলতি বছর হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় দুই দফা ভাঙন দেখা দেয় নদীর বাঁধে। লোকালয়ে পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অন্তত ৩০টি গ্রামের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের খামার ও সড়ক।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আজকে ২০ বছর ধইরা সেম জায়গার মধ্যে এই ভাঙ্গার ভোগান্তি ভোগতাছি। খাঁজা আটি গুই হওয়ার পর অর্ধেক কাজও অর্ধেক হয় না। পুরাভাবে সম্পূর্ণ কাজ কোনো সময় হইছে না।’

অন্য একজন বলেন, ‘আমরা ২০-৩০ টা গ্রাম খুব মা-বোন নিয়া ইত্যাদি গরু-বাছুর নিয়া আমরা খুব কষ্টে আছি। সরকারে বারবার টাকা-পয়সা দেয়, এরা কিছু খাইন, কিছু রাখুন।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেব বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ উন্নয়নে খরচ হয়েছে অর্ধশত কোটি টাকার বেশি। আর গত ১০ বছরে এই নদীর বাঁধের পেছনে খরচের পরিমাণ ঠেকেছে শত কোটি টাকার ঘরে। বছরের পর বছর চলছে বরাদ্দ, হচ্ছে প্রতিরক্ষা বাঁধ সংস্কার। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর কোটি টাকা খরচ করার পরও কেন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ?

স্থানীয় একজন বলেন, ‘আমাদের বাঁধের কোনো উন্নয়ন হয় নাই, তাদের ব্যক্তিগতভাবে উন্নয়ন হইছে। যে টাকাগুলো তাদের পেটে গেছে, যেইগুলো নদী গর্ভে যাওয়ার কথা ছিল, এই টাকাগুলো তাদের পেটে গেছে।’

আরও পড়ুন:

অন্য একজন বলেন, ‘আমরা বিপদ থেকে বাঁচতে চাই। কাজটা যাতে সঠিকভাবে হয়, এটা আমাদের এলাকায়, এলাকার মানুষ আমরা দীর্ঘদিনের দাবি।’

খোয়াই নদীর বাঁধটি ১৯৮০ সালে নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিনের পুরনো বাঁধ হওয়ায় বর্ষায় পানির চাপ বাড়লে বিভিন্ন অংশে ভেঙে যায়। এ থেকে রক্ষায় পুরো বাঁধ সংস্কার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশে স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এছাড়া খোয়াই নদীর গতিপথ পরিবর্তন নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘এই খোয়াই নদীর উভয় পাড়ে আমাদের যে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে, এই বাঁধটা আসলে ১৯৮০ সালে নির্মিত। বাঁধটা অনেক পুরাতন। তো বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বাঁধটা অনেক জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। তো এজন্য বাঁধটা আসলে মেরামত করা প্রয়োজন।’

খোয়াই নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আঠামুড়া পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সীমান্ত দিয়ে। হবিগঞ্জের ওপর দিয়ে ৯৪ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে মেঘনার মোহনায় গিয়ে মিলিত হয়েছে।

এসএস