প্রশাসনের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ২৪০টি পূজামণ্ডপকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৭০টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৩১টি সাধারণ মণ্ডপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তার চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৩৯টি মণ্ডপে একজন করে উপপরিদর্শক (এসআই) ও দু’জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ ৭০টি মণ্ডপে থাকবেন একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও একজন পুলিশ সদস্য। আর সাধারণ ১৩১টি মণ্ডপে দায়িত্ব পালন করবেন দু’জন করে পুলিশ সদস্য।
তিনি জানান, মণ্ডপকেন্দ্রিক দায়িত্বের পাশাপাশি মোটরসাইকেলে ২৯ জন পুলিশ সদস্য টহল দেবেন। এছাড়া ৩৮টি মোবাইল টহল টিম মাঠে কাজ করবে। স্ট্যান্ডিং ফোর্সে ৫১৯ জন এবং মোবাইল টিমে ৪২৮ জনসহ মোট ৯৪৭ জন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।
পুলিশের পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বড় পরিসরে দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। নারায়ণগঞ্জের জেলা কমান্ড্যান্ট মো. হেলাল উদ্দীন জানান, অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৩৯টি মণ্ডপে আটজন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ মণ্ডপে ছয়জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৫১৮ জন আনসার সদস্যকে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত করা হবে।
পূজামণ্ডপে অগ্নিকাণ্ডজনিত দুর্ঘটনা এড়ানো এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় নদী ও ঘাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, অগ্নিনিরাপত্তা কার্যক্রম এবং বিসর্জনের সময় ঘাটগুলোতে ডুবুরি দলের সহায়তাসহ পর্যায়ক্রমে ফায়ার সার্ভিসের দুই শতাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, পূজা শুরু হওয়ার পর প্রতিটি মণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র বা ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মণ্ডপে আগুন লাগার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন:
এসআরবি-১১ এর ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক ক্যাপ্টেন রওনক হাসান জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুরো জেলায় র্যাবের টহল কার্যক্রম চলবে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। পূজাকে নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন ও নজরদারি করবেন। এছাড়া বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
নারায়ণগঞ্জের নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডও। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশে ৩ হাজার ৪০০ কোস্ট গার্ড সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোতেও কোস্ট গার্ড সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই সমন্বিত প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য হলো পূজারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত উৎসবের প্রতিটি ধাপ নির্বিঘ্ন রাখা। মণ্ডপভিত্তিক নিরাপত্তার পাশাপাশি টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, অগ্নিনিরাপত্তা ও নদীপথে তদারকির ব্যবস্থা থাকায় সার্বিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়, এটি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে একটি সর্বজনীন উৎসবের আবহও তৈরি করে। তাই পূজার আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশ অটুট রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি মণ্ডপ পরিচালনা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনই সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।





